পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দেশটির শিক্ষা ও একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য ইরানের মেধা ও জ্ঞানভিত্তিক কাঠামোকে ধ্বংস করা। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, ইরানের বিজ্ঞানী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা আগ্রাসীদের গভীর হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তবে এ ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই দেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।
চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের এক মাস পূর্তিতে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবেই ইরানের বুদ্ধিবৃত্তিক অবকাঠামোকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।

তার ভাষায়, “জ্ঞানকে কখনো বোমা মেরে স্তব্ধ করা যায় না।”
 
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে বোমা হামলার মাধ্যমে তারা ইরানের বিজ্ঞান ও মেধাকে নিশ্চিহ্ন করতে পারবে। অতীতে ইরানি বিজ্ঞানীদের হত্যা এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর বর্তমান আক্রমণ সেই একই ধারাবাহিকতার অংশ।
 
ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলি সরকারের প্রতি বার্তা দিয়ে আরাঘচি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড উল্টো ইরানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান অন্বেষণের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে। তার এই বক্তব্য তেহরানের দৃঢ় মনোবল এবং পশ্চিমা চাপের মুখে নতি স্বীকার না করার অবস্থানকেই তুলে ধরে।

 
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করে। গত এক মাসে ইরানের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক স্থাপনাতেও ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব হামলায় দেশের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
 
অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও পাল্টা জবাব দিতে পিছিয়ে নেই।
তারা ইতোমধ্যে অধিকৃত ভূখণ্ড ও মধ্যপ্রাচলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার প্রতিটি ঘটনার জন্য আক্রমণকারীদের কঠোর মূল্য দিতে হবে।
 
এদিকে, আন্তর্জাতিক মহলে এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলার ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সরকার তাদের শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষা জোরদার করতে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।