প্রখ্যাত মার্কিন অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স সংযুক্ত আরব আমিরাতকে চলমান সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত থাকার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই যুদ্ধে অংশ নিলে আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো সরাসরি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

সোমবার এক ভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুবাই ও আবুধাবি মূলত পর্যটন ও বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে; এগুলো কোনোভাবেই শক্তিশালী সামরিক প্রতিরক্ষা বলয়ের আওতায় থাকা শহর নয়। ফলে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমিরাতকে একটি নিরাপদ অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে ধনীরা সম্পদ সংরক্ষণ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের সুযোগ পান। কিন্তু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া মানে এই কাঠামোকে ভেঙে ফেলা এবং দুবাইয়ের মতো শহরকে সম্ভাব্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা।
আমিরাতের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থানকে ‘অযৌক্তিক গোলমাল’ আখ্যা দিয়ে স্যাক্স বলেন, একটি চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো দেশটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হওয়া বিপজ্জনক, কিন্তু বন্ধু হওয়া আরও প্রাণঘাতী হতে পারে।


স্যাক্সের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে একটি বড় কৌশলগত ভুল করেছে। তারা ভেবেছিল, মার্কিন ঘাঁটি থাকলে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এদিকে ইরান ইতোমধ্যেই অঞ্চলটির দেশগুলোকে সতর্ক করেছে, যাতে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে কোনো হামলা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগ্রাসনের অংশীদার হিসেবে গণ্য করা হবে।
স্যাক্স আমিরাতকে ‘হেরে যাওয়া বাজি’র পেছনে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বাস্তবতা বুঝে কৌশল নির্ধারণ করা জরুরি।

অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আরও দৃঢ় সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে গোটা অঞ্চল এখন এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই ও আবুধাবির মতো বিশ্বখ্যাত বাণিজ্য ও পর্যটন নগরী যদি সরাসরি সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে, তবে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। বর্তমানে আমিরাত সরকার তাদের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে রয়েছে।