পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ বিবেচনাধীন ভোটারদের নামের নিষ্পত্তি করছে কমিশন। তথ্য অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত ৪০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। তাতে এখনও পর্যন্ত বাদ পড়েছে ১৮ লক্ষ ভোটারের নাম। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ধাপে ধাপে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের করছে কমিশন। কিন্তু, তাতেও বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভোটারদের মধ্যে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮১ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার পর, নতুন করে ১৮ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ এখন ট্রাইব্যুনালের হাতে। কিন্তু, এই ট্রাইব্যুনাল কি? কীভাবে কাজ হবে বা আবেদন করতে হবে? কোথায় গিয়ে আবেদন করতে হবে?
তা নিয়ে বহু মানুষের মধ্যেও এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। বৈধ হওয়া সত্ত্বেও যাদের নাম বাদ গিয়েছে তারা এখন কি করবেন? তানিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন।আরও পড়ুন:
ট্রাইব্যুনাল কী এবং কোথায় বসছে?
আরও পড়ুন:
যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁরা নিজেদের বৈধতা প্রমাণ করতে এই বিশেষ বিচারবিভাগীয় সংস্থায় আবেদন করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে ১৯ জন বিচারপতির একটি প্যানেল তৈরি করে দিয়েছে। ২৩ টি জেলার জন্য এই ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে জোকা আইআইএম-তে এই ট্রাইব্যুনাল বসবে। রবিবার থেকেই সেখানে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
যদিও কবে থেকে শুনানি শুরু হবে তা এখনও নির্দিষ্ট করেনি নির্বাচন কমিশন। কী কার্যপদ্ধতি মেনে চলবে এই ট্রাইব্যুনাল তা ঠিক করে দেবে কলকাতা হাইকোর্ট। এখন প্রশ্ন যাদের জেলায় বাড়ি বিশেষ করে কলকাতা থেকে অনেক দূরে বাড়ি তাদের কি আবেদনের জন্য মনানগরেই আসতে হবে নাকি জেলা থেকেই আবেদন করতে পারবেন তারা? তানিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, আবেদনকারীকে সশরীরে আসার দরকার নেই কলকাতায়। নিজের জেলা থেকেই করা যাবে আবেদন।আরও পড়ুন:
কীভাবে করবেন আবেদন?
আরও পড়ুন:
ভুক্তভোগী ভোটাররা দুইভাবে আবেদন করতে পারেন:
আরও পড়ুন:
অফলাইন: সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে আবেদন করা যাবে।
অনলাইন: নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে লগ-ইন করে আবেদন করা সম্ভব।
আরও পড়ুন:
বিচার প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে?
আরও পড়ুন:
আবেদন জমা পড়ার পর ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা বিএলও এবং ইআরও-দের দেওয়া রিপোর্ট যাচাই করবেন। আবেদনকারীর বয়স ও ঠিকানার প্রমাণপত্র খতিয়ে দেখা হবে। ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের (ভোটার ও বিএলও) বক্তব্য শুনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোট দেওয়ার যোগ্য কি না।
আরও পড়ুন:
অমিমাংসিত প্রশ্ন ও সংশয়
আরও পড়ুন:
আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলেও কিছু বিষয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। যেমন, আবেদনকারীর সঙ্গে আইনজীবী থাকা বাধ্যতামূলক কি না বা শুনানির বিস্তারিত এসওপি কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি কমিশন। অন্যদিকে, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। তার আগেই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। এত অল্প সময়ের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেদনের নিষ্পত্তি করে তাঁদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল।