পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের নাম ঢোকানোর অভিযোগ তুলে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি। সেই বিতর্কের মাঝেই মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী এবং শ্যামপুকুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের দফতরে ব্যাগভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে ঢুকতে দেখা গিয়েছে এক ব্যক্তিকে। যদিও ঘুরিয়ে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন। 
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে শশী পাঁজা অভিযোগ করেন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কমিশনের অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুরের এক ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেন।

তাঁর সঙ্গে ছিল ব্যাগভর্তি ফর্ম ৬। মন্ত্রীর দাবি, তৃণমূলপন্থী বিএলওরা ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৪০০টিরও বেশি ফর্ম ৬ উদ্ধার হয়। শশীর অভিযোগ, যাঁরা কমিশনের দফতরে এভাবে ফর্ম জমা দিচ্ছেন, তাঁরা বিজেপির ক্যাডার। এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগের দিন কমিশনের অফিসে বিপুল পরিমাণ ফর্ম ৬ জমা থাকার অভিযোগ তুলে সেখানে পৌঁছেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি কমিশনকে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জও জানান। তবে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সেই ফুটেজ সামনে আনা হয়নি বলে অভিযোগ শাসক দলের। এই প্রসঙ্গে শশী পাঁজা বলেন, বাংলার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিহার, মহারাষ্ট্র, দিল্লি বা হরিয়ানার মতো মডেল প্রয়োগের চেষ্টা করছে বিজেপি এবং মানুষের ভোটাধিকার নিয়েই খেলা চলছে।
এদিকে, এই অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের দফতর চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। অবৈধ ফর্ম ৬ জমার প্রতিবাদে বিক্ষোভে শামিল হন তৃণমূলপন্থী বিএলওরা।
পাল্টা সেখানে জড়ো হন বিজেপির কর্মী–সমর্থকেরাও। দু’পক্ষ  মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

এই বিতর্কের মাঝেই সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিনি জানান, ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ সারা বছরই জমা দেওয়া যায় এবং একজন ব্যক্তি কতগুলি ফর্ম জমা দেবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সীমাবদ্ধতা নেই।

তৃণমূলের ‘ভোটচুরি’র অভিযোগও উড়িয়ে দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সিইও দফতরে এমন কোনও সফটওয়্যার নেই যার মাধ্যমে সরাসরি ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়া যায়। কারও বিরুদ্ধে ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ উঠলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা যাচাই করেন এবং সেই রিপোর্ট কমিশনের কাছে জমা পড়ে।