পুবের কলম, কলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়ায় এবার কলকাতা পুরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলরের পরিবারের ৪ জনের নাম বাদ গেল। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেহানা খাতুনের ছেলে, দুই মেয়ে এবং বৌমার নাম বাদ গিয়েছে। এই নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন। এদিকে, এসআইআর প্রক্রিয়া ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
 
নিজের ওয়ার্ডে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া ভোটারদের সঙ্গে মঙ্গলবার দেখা করেন তৃণমূল কাউন্সিলর।

তখনই তিনি জানান, তাঁর পরিবারেরও ৪ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। রেহানা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে, দুই মেয়ে এবং এক বৌমার নাম বাদ পড়েছে। পাসপোর্ট-সহ সব নথি দিয়েছি। এত নথি দেওয়ার পরও নাম বাদ দিয়েছে। হিয়ারিংয়ে ২ বার ডেকেছিলেন। অথচ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরলে দেখতে পাই, চার জনের নাম নেই।

 
কলকাতা পৌরনিগমের দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর রেহানা। প্রথমে সিপিএমের টিকিটে কাউন্সিলর হয়েছিলেন। পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্যের শাসকদলের টিকিটে পৌরনিগমের নির্বাচনে জয়ী হন। এদিন তাঁর ওয়ার্ডে নাম বাদ পড়া ভোটারদের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা লড়াই করব। লড়াই ছাড়ব না। যদি ১০টা ভোটও থাকে, আমরা তৃণমূলকে দেব।
’ পরিসংখ্যান বলছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে কলকাতা পৌরনিগমের এই ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২৫ হাজার ভোটার ছিলেন। 
 
এসআইআর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, ৯ হাজার নাম বাদ পড়েছে। বিবেচনাধীন তালিকায় ছিলেন আরও অনেকে। এখন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে। এখন সাড়ে ১২ হাজারের কাছাকাছি ভোটারের নাম তালিকায় রয়েছে। চব্বিশ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় এই ওয়ার্ড থেকে তৃণমূল ৭৮৭৫ ভোটের লিড পেয়েছিল। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই ওয়ার্ড চৌরঙ্গী বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থীর কাছে অন্যতম অস্ত্র। সেই অস্ত্র ভোঁতা হয়ে যাওয়ায় চিন্তা বেড়েছে শাসক শিবিরে। তবে ট্রাইবুনালের কাছে আবেদন জানানো হবে বলে তৃণমূল স্পষ্ট করে দিয়েছে।