রাজ্যে বর্তমানে মাসে প্রায় ১৬ দিন ‘দুয়ারে রেশন’ পরিষেবা চালু থাকায় নির্দিষ্ট দিনে রেশন সংগ্রহ করতে না পারলেও মানুষ বড় ধরনের সমস্যায় পড়েন না। তবে এই ব্যবস্থাই বদলে দিতে চাইছে কেন্দ্র সরকার। পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের সব রাজ্যে অসমের মতো নির্দিষ্ট তারিখভিত্তিক রেশন বিতরণ ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রক। অসমে প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত রেশন দোকান থেকে খাদ্যশস্য বিতরণ হয়। কেন্দ্রের ২০২৫–২৬ সালের অ্যাকশন প্ল্যানের ৯ নম্বর পয়েন্টে এই মডেল সারা দেশে চালুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অ্যাকশন প্ল্যানে বলা হয়েছে, রেশন বণ্টনে দেশে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা জরুরি। বিভিন্ন রাজ্যের খাদ্য সচিবদের বৈঠকেও অসম মডেল অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গ খাদ্যদপ্তর এখনো এ বিষয়ে নিজেদের মতামত কেন্দ্রে পাঠায়নি।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রেশন ডিলারদের কমিশন বাড়ানোর দাবিও কেন্দ্রের এই উদ্যোগের পেছনে কাজ করছে।

প্রযুক্তির ব্যবহারে বণ্টনব্যবস্থা স্বচ্ছ হলেও কমিশন না বাড়ায় ডিলারদের অসন্তোষ বাড়ছে। তাঁদের দাবি, মাসিক আয় কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা হওয়া উচিত। কেন্দ্র কমিশন বাড়িয়ে আর্থিক চাপ বাড়াতে নারাজ; বরং চাইছে রাজ্য সরকারগুলো অতিরিক্ত কমিশনের দায়িত্ব নিক। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র রেশন ডিলারদের বিকল্প আয়ের সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে,রেশন দোকানে অতিরিক্ত পরিষেবা প্রদান, ন্যায্যমূল্যে পুষ্টিকর খাদ্য বিক্রি, দোকানগুলোকে ‘জন পোষণ কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলা ইত্যাদি। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে রেশন বিতরণ শেষ করে মাসের বাকি দিনগুলোতে এসব পরিষেবা চালিয়ে অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন ডিলাররা।