০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শর্ত সাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর শর্মিষ্ঠা পানোলির

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্কঃ অবশেষে জামিন পেলেন ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যকারী শর্মিষ্ঠা পানোলি। বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজা বাসু চৌধুরী শর্তসাপেক্ষে তাঁর জামিনের আর্জি মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায় তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে বলেছিলেন, বাক স্বাধীনতা থাকলেই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা যায় না। পাশাপাশি কেস ডায়েরি তলব করা হয়েছিল। এ দিন বিচারপতি বেশকিছু দিক খতিয়ে দেখে ১০ হাজার টাকা বন্ডে শর্মিষ্ঠার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে তাঁকে শর্ত দেওয়া হয়েছে, নিয়মিত তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে।

যদি পড়াশোনার জন্য তিনি পুনে যেতে চান, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিয়ে যেতে পারবেন। তবে আপাতত তাঁর বিদেশযাত্রার উপরে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। অন্যদিকে শর্মিষ্ঠার পুলিশি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে রাজ্য। বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে পুলিশকে। গুরুগ্রাম থেকে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার এই আইনের ছাত্রীকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে গার্ডেনরিচ থানায় প্রথম অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই হয় গ্রেফতারি। আলিপুর আদালতে তোলা হলে ১২ জুন পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। তবে তারপরই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

গত শুনানিতে জামিন না পেলেও বৃহস্পতিবার তা পেয়ে গেছেন শর্মিষ্ঠা। যদিও এদিন অ্যাডভোকেড জেনারেল কিশোর দত্ত এই নির্দেশের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অভিযোগ অপরাধমূলক, মামলার তদন্ত প্রাথমিক পর্যায় রয়েছে তাই জামিন দেওয়া ঠিক হবে না। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট আইনের ছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতের বক্তব্য, অপরাধ করেছেন তিনি তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁকে জামিন দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এও জানান হয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রী কলকাতার বাসিন্দা নন। তাই এই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নিম্ন আদালত।

এদিকে শর্মিষ্ঠার বাবা ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। দাবি, তাঁর মেয়েকে খুন, ধর্ষণ এমনকী মাথা কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, অ্যাসিড হামলা এবং পুড়িয়ে মারার মতো ভয়ঙ্কর হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তিনি এও বলেন, হুমকির মাত্রা এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে তাঁরা বাধ্য হন ফোন বন্ধ করে দিতে এবং সিম কার্ড খুলে ফেলতে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

আরও একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

শর্ত সাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর শর্মিষ্ঠা পানোলির

আপডেট : ৫ জুন ২০২৫, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্কঃ অবশেষে জামিন পেলেন ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যকারী শর্মিষ্ঠা পানোলি। বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজা বাসু চৌধুরী শর্তসাপেক্ষে তাঁর জামিনের আর্জি মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায় তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে বলেছিলেন, বাক স্বাধীনতা থাকলেই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা যায় না। পাশাপাশি কেস ডায়েরি তলব করা হয়েছিল। এ দিন বিচারপতি বেশকিছু দিক খতিয়ে দেখে ১০ হাজার টাকা বন্ডে শর্মিষ্ঠার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে তাঁকে শর্ত দেওয়া হয়েছে, নিয়মিত তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে।

যদি পড়াশোনার জন্য তিনি পুনে যেতে চান, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিয়ে যেতে পারবেন। তবে আপাতত তাঁর বিদেশযাত্রার উপরে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। অন্যদিকে শর্মিষ্ঠার পুলিশি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে রাজ্য। বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে পুলিশকে। গুরুগ্রাম থেকে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার এই আইনের ছাত্রীকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে গার্ডেনরিচ থানায় প্রথম অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই হয় গ্রেফতারি। আলিপুর আদালতে তোলা হলে ১২ জুন পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। তবে তারপরই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

গত শুনানিতে জামিন না পেলেও বৃহস্পতিবার তা পেয়ে গেছেন শর্মিষ্ঠা। যদিও এদিন অ্যাডভোকেড জেনারেল কিশোর দত্ত এই নির্দেশের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অভিযোগ অপরাধমূলক, মামলার তদন্ত প্রাথমিক পর্যায় রয়েছে তাই জামিন দেওয়া ঠিক হবে না। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট আইনের ছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতের বক্তব্য, অপরাধ করেছেন তিনি তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁকে জামিন দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এও জানান হয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রী কলকাতার বাসিন্দা নন। তাই এই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নিম্ন আদালত।

এদিকে শর্মিষ্ঠার বাবা ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। দাবি, তাঁর মেয়েকে খুন, ধর্ষণ এমনকী মাথা কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, অ্যাসিড হামলা এবং পুড়িয়ে মারার মতো ভয়ঙ্কর হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তিনি এও বলেন, হুমকির মাত্রা এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে তাঁরা বাধ্য হন ফোন বন্ধ করে দিতে এবং সিম কার্ড খুলে ফেলতে।