পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিয়ে তাও আবার ১০০'র বেশি! এত নিখুঁত পরিকল্পনা করে সম্পন্ন বিয়ে জানলে চমকে উঠবে সকলেই। এক স্ত্রীয়ের সঙ্গে অপর স্ত্রীয়ের যোগাযোগ পর্যন্ত ছিল না। ঘুণাক্ষরেও তারা জানতে পারতেন না স্বামীর কীর্তির কথা। আর বিয়ের পরেই স্ত্রীদের টাকা-পয়সা-সম্পত্তি হাঁতিয়ে পরের টোপ ফেলতে চলে যেতেন জিওভানি ভ্লিগিওটো। ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে ১০৪ থেকে ১০৫টি মেয়েকে বিয়ে করেন জিওভানি। আইনত বিচ্ছেদ না নিয়েই একের পর এক বিয়ে করে গেছেন তিনি।

গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জিওভানি ভ্লিগিওটো তাঁর জীবনের পুরো কাহিনি লিখে একটি ভিডিও শেয়ার করেন।

সৌজন্য ট্যুইটার

পুলিশের হাতে ধরা পড়ার সময় জিওভানির বয়স ছিল ৫৩ বছর। তিনি দাবি করেছেন, জিওভানি ভ্লিগিওটো তার আসল নাম নয়। ১৯২৯ সালের ৩ এপ্রিল সিসিলার সিরাকুরায় জন্মেছেন তিনি। এদিকে এক আইনজীবী জানিয়েছিলেন, জিওভানি ভ্লিগিওটোর আসল নাম নিকোলাই পেরুকসভ। নিয়ইয়র্ক শহরে ১৯৩৬ সালের ৩ এপ্রিল জন্মেছিলেন, ফ্রেড জিপ নামেও পরিচিত ছিলেন।

১৯৪৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ১০৪ থেকে ১০৫টি বিয়ে সারেন জিওভানি। এক স্ত্রীয়ের কাছে অপর স্ত্রীয়ের খবর ছিল না। প্রতিবারই নিজের ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে জিওভানি ভ্লিগিওটো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি ভিন্ন রাজ্যে সহ ১৪টি দেশের মেয়েকে বিয়ে করেন। বেশিরভাগ সময়ই একজনের সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রথম দিনেই তিনি সেই মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন।

গিনেশ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, প্রতিবারই বিয়ের পর স্ত্রীয়ের অর্থ ও সম্পত্তি নিয়ে পালিয়ে যেতেন তিনি। জিওভানি তার স্ত্রীদের বলতেন, তিনি খুব দূরে থাকেন। তাই তার সঙ্গে যেতে হলে তাদের যা কিছু টাকা-সম্পত্তি আছে সব কিছু নিজের সঙ্গে গুছিয়ে নিতে।

সমস্ত সামগ্রী বাক্সবন্দী হয়ে গেলেই, সব ট্রাকে তুলে নিয়েই বেপাত্তা হয়ে যেতেন জিওভানি। স্ত্রীয়ের কাছ থেকে হাতানো সমস্ত সামগ্রী বাজারে বিক্রি করে মোটা টাকা রোজগার করে আবার পরের শিকার ধরতে বেরিয়ে যেতেন। তার জীবনে সব থেকে বড় শিকার ছিল শ্যারন ক্লার্ককে বিয়ে। তিনি ইন্ডিয়ানার একজন মার্কেটিং ম্যানেজার ছিলেন। ১৯৮১ সালের ২৮ ডিসেম্বর জিওভানিকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৮৩ তে বিচার শুরু হয়। বিচারে তার ৩৪ বছর সাজা সহ ২ কোটি ৭২ লক্ষ ৪৬৮৭৪ টাকা জরিমানা করে আদালত। ২৮টি প্রতারণা সহ আইনি বিচ্ছেদ না হয়ে ৬টি বিবাহের মামলা দায়ের হয়। ৮ বছর তিনি আরিজোনা রাজ্যের জেলে বন্দী ছিলেন। ১৯৯১ সালে ৬১ বছর বয়সে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত কারণে মৃত্যু হয় জিওভানি ভ্লিগিওটোর।

গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, এক আশাহীন রোমান্টিক জীবনের প্রতি আসক্তি, মেয়েদের প্রতি অতিরিক্ত দুর্বলতা শেষ করে দিয়েছিল জিওভানি ভ্লিগিওটোর জীবন।