০৫ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণঅভ্যুত্থানের পর নেপালে আজ ভোট

 

নেপালে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন, যা দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এক বড় অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের রক্তক্ষয়ী ছাত্র আন্দোলন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী K. P. Sharma Oli সরকারের পতনের পর এই নির্বাচনকে অনেকেই নেপালের পুরোনো রাজনৈতিক শক্তি ও নতুন প্রজন্ম—বিশেষ করে জেন জেড ভোটারদের—মধ্যে এক ধরনের গণভোট হিসেবে দেখছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভা নির্বাচন করবেন। মোট আসনের মধ্যে ১৬৫টিতে সরাসরি ভোট হচ্ছে এবং বাকি ১১০টি আসন পূরণ করা হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে। দেশের ১০ হাজার ৯৬৭টি ভোটকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ চলছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল থেকে দ্রুত ফলাফল সংগ্রহের জন্য হেলিকপ্টারে করে ব্যালট বাক্স আনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এই নির্বাচনের মূল আকর্ষণ প্রবীণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও তরুণ প্রজন্মের মুখোমুখি লড়াই। ৭৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ নেতা K. P. Sharma Oli আবারও নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। তার বিপরীতে তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় মুখ, কাঠমান্ডুর মেয়র Balen Shah ওলির শক্ত ঘাঁটি ঝাপা-৫ আসন থেকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। ফলে নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে তরুণ নেতা Gagan Thapa-কে সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছে Nepali Congress। পাশাপাশি Rabi Lamichhane-এর নেতৃত্বাধীন Rastriya Swatantra Party নিজেদেরকে গত বছরের গণআন্দোলনের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ছাত্র ও জনবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই আন্দোলনে প্রায় ৭৫ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং তীব্র জনচাপের মুখে তখনকার প্রধানমন্ত্রী K. P. Sharma Oli পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি Ram Chandra Poudel অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে Sushila Karki-কে দায়িত্ব দেন।
আজকের এই নির্বাচন তাই শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়; বরং এটি গত বছরের ‘রাস্তার আন্দোলন’ কতটা ব্যালটের মাধ্যমে ক্ষমতার কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে তারও পরীক্ষা। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেশজুড়ে প্রায় তিন লাখ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এই নির্বাচনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

পরিকল্পিতভাবে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, বড়মার প্রয়াণ দিবসে মতুয়া আবেগে বিজেপিকে নিশানা মমতার

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

গণঅভ্যুত্থানের পর নেপালে আজ ভোট

আপডেট : ৫ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার

 

নেপালে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন, যা দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এক বড় অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের রক্তক্ষয়ী ছাত্র আন্দোলন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী K. P. Sharma Oli সরকারের পতনের পর এই নির্বাচনকে অনেকেই নেপালের পুরোনো রাজনৈতিক শক্তি ও নতুন প্রজন্ম—বিশেষ করে জেন জেড ভোটারদের—মধ্যে এক ধরনের গণভোট হিসেবে দেখছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভা নির্বাচন করবেন। মোট আসনের মধ্যে ১৬৫টিতে সরাসরি ভোট হচ্ছে এবং বাকি ১১০টি আসন পূরণ করা হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে। দেশের ১০ হাজার ৯৬৭টি ভোটকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ চলছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল থেকে দ্রুত ফলাফল সংগ্রহের জন্য হেলিকপ্টারে করে ব্যালট বাক্স আনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এই নির্বাচনের মূল আকর্ষণ প্রবীণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও তরুণ প্রজন্মের মুখোমুখি লড়াই। ৭৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ নেতা K. P. Sharma Oli আবারও নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। তার বিপরীতে তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় মুখ, কাঠমান্ডুর মেয়র Balen Shah ওলির শক্ত ঘাঁটি ঝাপা-৫ আসন থেকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। ফলে নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে তরুণ নেতা Gagan Thapa-কে সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছে Nepali Congress। পাশাপাশি Rabi Lamichhane-এর নেতৃত্বাধীন Rastriya Swatantra Party নিজেদেরকে গত বছরের গণআন্দোলনের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ছাত্র ও জনবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই আন্দোলনে প্রায় ৭৫ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং তীব্র জনচাপের মুখে তখনকার প্রধানমন্ত্রী K. P. Sharma Oli পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি Ram Chandra Poudel অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে Sushila Karki-কে দায়িত্ব দেন।
আজকের এই নির্বাচন তাই শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়; বরং এটি গত বছরের ‘রাস্তার আন্দোলন’ কতটা ব্যালটের মাধ্যমে ক্ষমতার কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে তারও পরীক্ষা। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেশজুড়ে প্রায় তিন লাখ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এই নির্বাচনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।