পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: প্রায় ৮০ দিন ধরে জাতি-সংঘর্ষের আগুনে জ্বলছে বিজেপি-শাসিত মণিপুর। কি  ভাবে থামবে এই হিংসা? তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও দিশা নেই। উত্তর নেই বিজপির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের কাছেও। যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে চলা জাতি-দাঙ্গায় বহু মানুষের মৃত্যুর পরেও আশ্চর্যজনকভাবে নীরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, তাই বিজেপি নেতারাও তেমন প্রতিক্রিয়া দেননি। তাকেই ‘প্রছন্ন প্রশ্রয়’ বলে মনে করেছে মণিপুরের রাজনীতি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ফলস্বরূপ পার্বত্যরাজ্যে আগুন স্তিমিত হওয়া তো দূরের কথা বরং লাগাতার নৃশংসতার খবর সামনে আসছে।
এই আবহে সোমবার ফের শুরু হবে বাদল অধিবেশন। আর মণিপুর গণধর্ষণ, বিবস্ত্র  কাণ্ডে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ‘খোলা চ্যালঞ্জ’ছুঁড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন। শনিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি  জানান, আমরা আলোচনা চায়। হয় রাজ্যসভা নয় লোকসভা। প্রধানমন্ত্রী আপনি বলুন কোথায়?

এদিন ডেরেক ও ব্রায়েন আরও বলেন, বিজেপিই সংসদ অচল করে দিচ্ছে। কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
আমরা সকলেই মণিপুর ইস্যুতে আলোচনা চাই। তবে প্রথম কথা শুরু করতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

মণিপুর নিয়ে এযাবৎ একাধিক বার মুখ খুলেছেন মমতা সহ বিরোধী দলনেতারা। এমনও অভিযোগ উঠেছে, ‘বেটি –বাঁচাও’ নাড়া লাগালেও মণিপুর বা দেশের মেয়েদের জন্য ভাবিত নয় কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।

সূত্রের খবর, সরকার ও বিরোধী - দু'পক্ষই মণিপুর নিয়ে আলোচনা চায়। কিন্তু ২৬৭  নাকি  ১৭৬ ধারা! কীসে হবে আলোচনা, তা নিয়েই এখন চূড়ান্ত টানাপোড়েন।
বিরোধীদের দাবি ২৬৭, অন্যদিকে সরকার পক্ষ চায় ১৭৬ ( উক্ত ধারায় কেবলমাত্র তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বা 'স্বল্পকালীন আলোচনা' হয় সংসদে)।   সোমবার অধিবেশনের সময়কালে সরকারকে আরও বেশি আক্রমণ করার জন্য ঘুঁটি সাজাচ্ছে 'টিম ইন্ডিয়া'।

হিংসা বিধ্বস্ত মণিপুরে বর্বরতার খবর প্রকাশ্যে এসেছে! গণধর্ষণের পর দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর ঘটনায় আলোড়িত দেশ। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে নিন্দার ঝড়। ঘটনার আড়াই মাস পর গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত সহ ৪ জন। বাকিদের খোঁজে জারি তল্লাশি। ৪ মে মণিপুরের থৌবল জেলার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে রাজ্য পুলিশ। এতদিন কী করছিল তারা? উঠছে সেই প্রশ্নও।