ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মিত্রদেশকে যুদ্ধে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের ১৭তম দিনেও কোনো দেশ সরাসরি এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়েছেন, যুক্তরাজ্যসহ মিত্রদেশগুলো যদি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সহায়তা না দেয়, তবে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যদিও পরে তিনি আশা প্রকাশ করেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত সহযোগিতা করবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনায়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। কিন্তু সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে পৌঁছেছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদেশগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে। ট্রাম্প বলেছেন, যে দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করে সুবিধা পাচ্ছে, তাদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসা উচিত।
তবে এখন পর্যন্ত ইউরোপের বেশির ভাগ দেশই সরাসরি এই সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস জানিয়েছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলা ন্যাটোর যুদ্ধ নয়, তাই জার্মানি এতে অংশ নেবে না। একইভাবে ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড ও গ্রিসও হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া ও জাপানও একই অবস্থান নিয়েছে। যদিও দক্ষিণ কোরিয়া বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে ইরান বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে—এমন দাবি সঠিক নয়। যত দিন প্রয়োজন, তত দিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ তাবরিজ, শিরাজ ও ইসফাহানে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা হামলা হয়েছে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায়ও। সংঘাতের প্রভাব কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৮ হাজারের বেশি মানুষ। অন্যদিকে ইসরায়েলেও হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মিত্র দেশ শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছে। তাই তাদের সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কার্যত একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।