পুবের কলম প্রতিবেদক: টটেনহ্যাম হটস্পারে খেলাকালিন নিজেকে একটা আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। যার ফলে ডেলে আলীকে শুরুর দিকে ইংল্যান্ডের ফুটবলে প্রজন্মের অন্যতম সেরা প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। যদিও পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে ক্লাব ও সমর্থকদের অতি-প্রত্যাশা মেটাতে গিয়ে সাফল্যের চরম শিখরে পৌঁছতে পারেননি। ইংল্যান্ডের জার্সিতে ৩৭টি ম্যাচ খেলা টটেনহ্যামের এই প্রাক্তন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তার ইউরোপীয় ফুটবলের লাইম লাইটে উঠে আসার পিছনে রয়েছে ভয়ানক এক সত্য। যা তার সমর্থকদের রীতিমতো চমকে দিতে পারে।

তুরস্কের ক্লাব বেসিকতাস-এ এই মুহূর্তে খেলছেন ডেলে আলী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের প্রাক্তন ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিলকে ২৭ বছর বয়সী ডেলে আলী নিজের শৈশবের অন্ধকারময় দিকগুলি তুলে ধরে বলেন, ‘ আমি নিজের শৈশব নিয়ে আমি কখনোই সেভাবে কিছু বলিনি। এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলি আমার শৈশবকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। মাত্র ৬ বছর বয়সে আমি মায়ের বন্ধুর দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হই। আমি সাত বছর বয়সে ধূমপান শুরু করি।
আট বছর বয়সে ড্রাগ নেওয়াও শুরু করি। আমি ফুটবল নিয়ে বাইকে উঠে তার নিচে ড্রাগস রেখে চালিয়েছি। ধরা পড়তে ১১ বছর বয়সে আমাকে কয়েক’জন মিলে ব্রিজের সঙ্গে ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিল।’

২০১৮-১৯ সালে টটেনহ্যামকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তোলা ডেলে আলী নিজের শৈশবের বর্ণনায় আরও বলেন, ‘হতাশায় একটা সময় প্রতিনিয়ত ঘুমের ওষধ সেবন করতে থাকি। সেই আসক্তি কাটাতে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রেও ভর্তি হয়েছিলাম।
আমার তিন বছর বয়সে পিতা ডেনিস ও মা কেহিন্দের বিচ্ছেদ ঘটে।’ ২০০৭ সালে স্থানীয় মিল্টন কেনেস ডনস ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর ডেলে আলী ফুটবলে মনোযোগী হয়ে ওঠেন। সেই ক্লাবের সতীর্থ হ্যারি হিকফোর্ডের বাড়িতে তার পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। অ্যালান ও স্যালি হিকফোর্ড তাঁকে দত্তক নেওয়ার পর জীবনটা পাল্টাতে শুরু করে। নিজের পিতা-মাতা সম্পর্কে তার সংযোজন, ‘আমাকে যারা জন্ম দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কোনো ইচ্ছাই তাঁর নেহ। যারা আমাকে দত্তক নিয়েছিলেন, তারাই আমার সব। তারা না থাকলে আমি কখনই সেই অন্ধকারময় জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারতাম না।’