পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: তীব্র বিরোধিতা, হট্টগোল এবং ভোটাভুটির মধ্যেও লোকসভায় পেশ হল কেন্দ্রের প্রস্তাবিত মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস বিল। বিরোধীদের বাধা সত্ত্বেও আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল সংসদে পেশ করেন সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল, যার মাধ্যমে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করার পথ তৈরি হবে। একইসঙ্গে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০-তে উন্নীত করার আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল-ও পেশ করা হয়েছে।
অধিবেশন শুরু হতেই বিল পেশের বিরোধিতায় সরব হয় বিরোধী শিবির।
কংগ্রেস সাংসদ কে সি ভেনুগোপাল বিলটি পেশের আগেই ভোটাভুটির দাবি জানান। প্রথমে স্পিকার তাতে সম্মতি না দিলেও বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভ, স্লোগান এবং চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটি করাতে বাধ্য হন।ভোটাভুটিতে সরকারপক্ষের জয় হয় প্রত্যাশিতভাবেই। বিল পেশের পক্ষে ভোট পড়ে ২০৭টি, বিপক্ষে ১২৬টি।
ফলে বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে লোকসভায় পেশ করার অনুমোদন পেয়ে যায় সরকার। তবে এই ভোটাভুটিতে সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষের বহু সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, এনডিএ-র অন্তত ৮৬ জন সাংসদ এবং বিরোধী জোটের আরও বেশি সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।আরও পড়ুন:
এই বিলের মূল উদ্দেশ্য, লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
যদিও ২০২৩ সালে একই ধরনের বিল সংসদে পাস হয়েছিল, তখন শর্ত ছিল জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাস করে তা কার্যকর করা হবে। কিন্তু এবার কেন্দ্র ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে, আর সেই কারণেই বিরোধীরা এর তীব্র বিরোধিতা করছে।আরও পড়ুন:
তবে বিল পেশ হওয়া মানেই তা পাস হয়ে যাওয়া নয়। সংবিধান সংশোধনের জন্য লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ পূর্ণ উপস্থিতি থাকলে কমপক্ষে ৩৬২টি ভোট দরকার। বর্তমানে এনডিএ-র হাতে রয়েছে ২৯৩ জন সাংসদ, ফলে বিল পাশ করাতে সরকারের আরও সমর্থন প্রয়োজন হবে। তাই বিল পেশে জয় পেলেও, চূড়ান্ত লড়াই এখনও বাকি।