পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: পেশ হল মহিলা সংরক্ষণ বিল। যার পোশাকি নাম ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের হাত ধরে এই বিল পেশ হয়। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে সংসদের উভয়কক্ষে। যদিও শেষপর্যন্ত তা পাশ করা যায়নি।
আরও পড়ুন:
১৯৯৬ সালে এইচডি দেবগৌড়ার নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট সরকার মহিলা সংরক্ষণ বিল বাস্তবায়নের কথা বলেছিল। যদিও এই বিল পাশ হওয়ার আগেই দেবগৌড়ার সরকার বিদায় নেয়। পরবর্তীকালে অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে প্রসঙ্গ উঠলেও বিল পাশ করা যায়নি। প্রথমবার মনমোহন সিং সরকার ২০১০ সালে রাজ্যসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করেছিল।
কিন্তু লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে এই বিলটি আটকে যায়।আরও পড়ুন:
১৮ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেন। তিনি জানান, বর্তমানে লোকসভায় ১৪ শতাংশ এবং রাজ্যসভায় ১০ শতাংশ মহিলা সাংসদ রয়েছেন। ১৯৫২ সালের প্রথম লোকসভায় যা ছিল ৫ শতাংশ। অর্থাৎ বিগত ৭০ বছরে চমকপ্রদ কোনও পরিবর্তন ঘটেনি । তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ও ব্রিটেনের পার্লামেন্টে অতীতে মহিলা এমপি ছিলেন ২-৩ শতাংশ। আজ তা ২৮ ও ৩৩ শতাংশতে গিয়ে ঠেকেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় স্বাধীনতার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৭৫০০ সাংসদ সংসদের উভয় কক্ষে অবদান রেখেছেন। যার মধ্যে মহিলা সংখ্যা মাত্র ৬০০।
১৭তম লোকসভায় এখনও পর্যন্ত ৮২ জন মহিলা সাংসদ রয়েছেন। অর্থাৎ, লোকসভার মোট আসনের প্রায় ১৫.২১ শতাংশ মহিলা। ২০২২ সালে কেন্দ্র জানিয়েছিল, রাজ্যসভায় মহিলাদের প্রতিনিধি আছেন মোট আসনের ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৪ সালে ১৬ তম লোকসভায় ৬৮ জন মহিলা সাংসদ ছিলেন। যা মোট আসনের ১১.৮৭ শতাংশ মাত্র। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন অনুসারে ৪৭.২৭ কোটি পুরুষ, এবং ৪৩.৭৮ কোটি মহিলা ভোটার রয়েছেন। উক্ত সালে পুরুষদের তুলনায় মহিলা ভোটার সংখ্যা অনেকটাই বেশি ছিল।
আরও পড়ুন:
সংবিধানের ২৪৩ ডি অনুচ্ছেদ অনুসারে দেশে পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। ১৯৯২ সালে ৭৩ তম সংবিধান সংশোধনী আইনের মাধ্যমে পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানগুলিতে মহিলাদের এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়ের জন্য ৩৩.৩ শতাংশ সংরক্ষণের বিধানকে বাধ্যতামূলক করেছিল।
এই ঐতিহাসিক সংশোধনীর পরে, ১৪ লক্ষেরও বেশি মহিলা নেতৃত্বের ভূমিকায় আসেন। বর্তমানে অন্তত ২১ টি রাজ্য পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে মহিলারা প্রধান মুখ হয়ে উঠছে।আরও পড়ুন:
বিশ্বের কোন দেশে কতজন নারী সংসদ সদস্য আছে?
আরও পড়ুন:
সাংসদে মহিলা সংসদ সংখ্যার দিক থেকে আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডা সবচেয়ে এগিয়ে। দেশটির নাম শুনলেই মনে পড়ে মধ্য-নব্বই দশকে হুতু আর তুসতি উপজাতির মধ্যকার ভয়াবহ জাতিগত দাঙ্গা ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের কথা। ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে উঠা দেশটিতে এখন মহিলা সংসদ সংখ্যা সব থেকে বেশি। নিম্নকক্ষে সংসদীয় আসনে ৬০ এবং উচ্চকক্ষে ৩৪.৬ শতাংশ আসন মহিলাদের আসনে। এর পর কিউবা (৫৩%) এবং নিকারাগুয়া (৫২%) র পার্লামেন্টে ছেলেদের তুলনায় মেয়ে এমপির সংখ্যা সবথেকে বেশি। তবে নিউজিল্যান্ড, মেক্সিকো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মহিলা ও পুরুষ সংসদ সংখ্যা একই। কনটেক্সট ডট নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৬ সালের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল ন্যাশনাল কাউন্সিলে কোনো নারী ছিলেন না, কিন্তু প্রেসিডেন্টের নির্দেশের পর থেকে লিঙ্গ সমতা অর্জিত হয়। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে মহিলা ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সংখ্যাও।
আরও পড়ুন: