আরও পড়ুন:
পুবের কলম প্রতিবেদক, মোথাবাড়ি: স্কুলের শৌচাগারের প্রাচীর ভেঙে মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক ছাত্রের। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছে আরেক ছাত্র। দু’জনই একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। টিফিনের পর শৌচকর্ম করতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কালিয়াচক-২ ব্লকের বাঙ্গিটোলা হাইস্কুলের ঘটনা।
আরও পড়ুন:
মৃত ছাত্রের নাম জিসান শেখ (১৭)। তার বাড়ি বাঙ্গিটোলা ফিল্ড এলাকায়।
আহত ছাত্রের নাম জিসান মোমিন (১৭)। তার বাড়ি জোতঅনন্তপুর এলাকায়। ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য পড়ুয়ারা উদ্ধার করে তাদের। স্থানীয় বাঙ্গিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাদের অবস্থার অবনতি হতে থাকলে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জিসান শেখকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জিসান মোমিনের চিকিৎসা চলছে।আরও পড়ুন:
এদিকে স্কুলের শৌচালয়ের মধ্যে দুর্ঘটনায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যুর খবর চাউর হতেই ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয় ছাত্র ও গ্রামবাসীদের মধ্যে।
তারা বাঙ্গীটোলা হাইস্কুলের সামনে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। বিডিও ধামাল সিং বিরদী ঘটনাস্থলে গেলে তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে ছাত্রছাত্রীরা। ঘটনারপ্রতিবাদে ক্ষুব্ধ জনতা স্কুলে আগুন লাগিয়ে দেয়। জনরোষ আছড়ে পড়ে স্কুলের ভিতর। পড়ুয়াদের একাংশ ঐতিহ্যবাহী স্কুলটির বেশ কিছু অংশে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসে পুলিশ। প্রশাসন ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়দের একাংশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সচেষ্ট হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে হয়েছে, শূন্যে এক রাউণ্ড গুলিও চালাতে হয় বলে খবর। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকার পরিবেশ থমথমে রয়েছে।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসেন বাঙ্গিটোলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তোহিদুর রহমান ও তৃণমূলের জেলা সংখ্যালঘু সেলের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামও। তাঁরা জানান, ‘পড়ুয়াদের একাংশের প্ররোচনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে হয়। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করি।’
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত সামন্ত বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা এলাকায় যাচ্ছি। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় যদি কোনও গাফিলতি থাকে তবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’