পুবের কলম, ওয়েব ডেস্কঃ লোকসভার মোট ৫৪৩টির মধ্যে ৪০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছিল কেন্দ্রের বিদায়ী শাসক বিজেপি। কিন্তু ফল প্রকাশ হতেই দেখা গেল ২৪০টি আসনে থমকে গেছে পদ্ম শিবিরের চারশো পারের আশা। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি ৬০টিরও বেশি আসনে পরাজিত হয়েছে। সরকার গঠন করতে এখন মোদি শাহকে এনডিএ জোটের শরিদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ২০১৪ সালের পর এই প্রথম একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মর্যাদা হারল বিজেপি।
আরও পড়ুন:
এবারের নির্বাচনে একদিকে শাসক এনডিএ অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি ইন্ডিয়া জোট গঠন করে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী এনডিএ এবং ইন্ডিয়া জোটের বাইরেও বেশ কিছু প্রার্থী জয়ী হয়েছে। জোট নিরপেক্ষ নবনির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে আছেন নির্দল সাংসদ।
আরও পড়ুন:
অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনের পর পূর্বতন এনডিএ জোট সরকার গঠনের দিকে এগোলেও অন্ধ্রপ্রদেশের এন চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি(টিডিপি) এবং বিহারের নীতীশ কুমারের জনতা দল(ইউ)-এর জয়ী সাংসদদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। টিডিপি এবং জেডি(ইউ) দলের মোট ৩২টি আসনের সমর্থন নিয়ে বিজেপি পরিচালিত এনডিএ সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার লাভ করে।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে কংগ্রেস ২০১৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি আসনে জয় লাভ করেছে। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি তার হারানো জমি ফিরে পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এককভাবে ২৯টি আসন জিতে নেয়। যার ফলে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে বিজেপি।ইন্ডিয়া ব্লক যৌথভাবে ২৩৪টি আসন লাভ করেছে।
আরও পড়ুন:
কিন্তু এই নির্বাচনে উপরোক্ত দুই জোটের বাইরে ১৭ জন প্রার্থী জয়ী হয়ে পার্লামেন্টের সদস্য হয়েছেন।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৭ জন নির্দল প্রার্থী। এঁরা হলেন বিহারের পূর্নিয়া লোকসভা কেন্দ্রের রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব। মহারাষ্ট্রের সাংলি লোকসভা কেন্দ্রের বিশাল(দাদা) প্রকাশবাপু পাতিল। পাঞ্জাবের খাদুর সাহেব লোকসভা কেন্দ্রের অমৃতপাল সিং। একই রাজ্যের ফরিদকোট লোকসভা কেন্দ্রের সরবজিত সিং খালসা। কেন্দ্রশাসিত দমন ও দিউ লোকসভা কেন্দ্রের প্যাটেল উমেশভাই বাবুভাই। জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা লোকসভা কেন্দ্রের আব্দুল রশিদ শেখ। কেন্দ্রশাসিত লাদাখ লোকসভা কেন্দ্রের মহম্মদ হানিফ।আরও পড়ুন:
পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশের চারজন প্রার্থী এই নির্বাচনে ওয়াইএসআরসিপি দলের সাংসদ হিসাবে জয় লাভ করেছেন। তারা হলেন আরাকু লোকসভা কেন্দ্রের গুম্মা থানুজা রানী। কাদাপা লোকসভা কেন্দ্রের ওয়াইএসঅবিনাশ রেড্ডি। তিরুপতি লোকসভা কেন্দ্রের গুরুমূর্তি মাদিলা, রাজামপেট লোকসভা কেন্দ্রের পিভি মিধুন রেড্ডি। এআইএমআইএম ফলের সাংসদ হয়েছেন হায়দ্রাবাদের তেলেঙ্গানা লোকসভা কেন্দ্র থেকে আসাউদ্দিন ওয়াইসি। আজাদ সমাজ পার্টি (কাঁশি রাম) দলের সাংসদ হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের নাগিনা লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী চন্দ্রশেখর। পাঞ্জাবের ভাটিন্ডা লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে শিরোমণি আকালি দলের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন হরসিমরত কৌর বাদল। রাজস্থানের বাঁশওয়াড়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে ভারত আদিবাসী পার্টির সাংসদ হয়েছেন রাজ কুমার রোট। জোরাম পিপলস মুভমেন্ট দলের সাংসদ হয়েছেন মিজোরাম লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী রিচার্ড ভ্যানলালহমানগাইহা। মেঘালয়ের শিলং লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে ভয়েস অফ দ্য পিপল পার্টির সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন ডাঃ রিকি অ্যান্ড্রু জে সিংকন।