আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প নিয়ে উত্তপ্ত দেশের ১১ রাজ্য। চলছে তীব্র আন্দোলন এই প্রকল্পে ৪ বছরে অবসর গ্রহণই বিক্ষোভকারীদের সবচেয়ে বড় অসন্তোষের কারণ। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শনিবার তড়িঘড়ি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সিআরপিএফ নিয়োগে ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণা করেছে। প্রশ্ন হল ৪ বছর সেনার চাকরি থেকে অবসরের পর অগ্নিবীরদের সিআরপিএফ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রকে যে সংরক্ষণ পাবেন তাতে বেকার সমস্যা কতটা মিটবে? কারণ সেনার নয়া প্রকল্প ‘অগ্নিপথ’-এর অন্তর্গত প্রতি বছর ৪৫-৫০ হাজার নিয়োগ হবে। অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচের নিয়োগ ২০২৩ সালে হবে। এর চার বছর পর অর্থাৎ ২০২৭ সালে ২৫ শতাংশ বা ১২-১৫ হাজার অগ্নিবীর সেনায় স্থায়ী নিয়োগপত্র পাবেন।
এবার বাকি ৭৫ শতাংশ বা ৩৫-৩৭.৫ হাজার জওয়ান অবসর নেবেন। অর্থাৎ ২০২৭ সালের পর প্রতি বছরই এই সংখ্যক অগ্নিবীর অবসর নেবেন। এদের ভবিষৎ কি? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী বা সিআরপিএফ, অসম রাইফেলস-এ নিয়োগের ক্ষেত্রেও ১০ শতাংশ সংরক্ষণ ঘোষণা করেছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ডের ১৬টি আধা বেসরকারি সংস্থায় নিয়োগে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ ঘোষণা করেছে।আরও পড়ুন:
সেন্ট্রাল আর্মড ফোর্স-এ প্রতি বছর প্রায় ৩ হাজার অগ্নিবীর নিয়োগ করবে। কিন্তু প্রতি বছর ৩৭ হাজার অবসর নেওয়া অগ্নিবীরের মাত্র ২,৮০০ জনকেই নিয়োগ দিতে পারবে।
বাকি ৩৪ হাজার ফের রোজগারহীন হয়ে যাবেন। এখানে আরও একটি বিষয় হল সিআরপিএফেও গত কয়েক বছরে নিয়োগ উল্লেখ্যযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৭ সালের পর সিআরপিএফে নিয়োগ প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে। ২০২০ সালে ১.২৯ লক্ষ শূন্যপদে মাত্র ১০,১৮৪ পদেই নিয়োগ হয়েছে। ২০১৯-২০ সালে ব্যয় বিভাগের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিরক্ষার বেসামরিক পদের ‘সি’ বিভাগে ২,০৫,১৯৩ শূন্যপদ রয়েছে। যদি মেনে নেওয়াও হয় সরকার একইবার এই সমস্ত পদে নিয়োগ করল, অগ্নিবীর সংরক্ষণ অনুযায়ী ১০ শতাংশ অর্থাৎ ২০ হাজার চাকরি মিলবে। কিন্তু একবারে এত আসনে নিয়োগ করা নিয়েও সংশয় যথেষ্ট রয়েছে।আরও পড়ুন:
এরইসঙ্গে বলা যায় যে সরকার একটি বছরই এই নিয়োগের করতে পারবে। কিন্তু পরবর্তী বছরে চাকরির জন্য অনেক গুণ কম সংখ্যক পদ সংরক্ষণের সম্ভাবনা থাকবে। অর্থাৎ অগ্নিবীরদের জন্য চাকরির সুযোগ অনেকটাই কমবে।
আরও পড়ুন:
যদি সিআরপিএফ এবং প্রতিরক্ষায় চাকরির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অগ্নিবীরকে সংরক্ষণ দেওয়া হয়, তাহলেও বছরে সর্বাধিক ২২-২৩ হাজার চাকরি হবে। অর্থাৎ প্রতি বছর বাকি প্রায় ১৫ হাজার অবসরপ্রাপ্তের ভবিষ্যৎ কি! যদিও সমস্ত খালি পদে যদি নিয়োগ হয় তবেই এই ২২-২৩ হাজার অগ্নিবীরের চাকরি পাবেন। একইসঙ্গে এমনটা কেবল প্রথম বছরই সম্ভব।
আরও পড়ুন: