পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: দেশের প্রায় সব আদালতেই বিচার পেতে আমজনতাকে অগুণতি ‘দিন’ গুনতে হচ্ছে। জেলে বন্দিদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়েও ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খোদ সুপ্রিম কোর্ট। মামলার পাহাড় জমে আছে আদালতগুলিতে। একরকম উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এক সংবাদমাধ্যমের সমীক্ষা। দেশের ২৫টি হাইকোর্টে ৩২৭টি বিচারপতির পদ শূন্য রয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত ইলাহাবাদ, পঞ্জাব, হরিয়ানা, গুজরাট, বোম্বে এবং কলকাতা হাইকোর্টেই বিচারপতির ১৭১টি শূন্যপদ ছিল। পুরো দেশে যেখানে মোট বিচারপতির ৩২৭টি পদ শূন্য, সেখানে মাত্র ছ’টি হাইকোর্টেই বিচারপতির শূন্যপদের সংখ্যা ১৭১।
অর্থাৎ ৫২ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে।দেশের সমস্ত হাইকোর্টে বিচারকের মোট অনুমোদিত সংখ্যা ১,১১৪। অর্থাৎ মোট বিচারপতির ২৯.৪ শতাংশ পদ খালি রয়েছে। উচ্চ আদালতে বিপুল সংখ্যক শূন্য পদের ফলেই মুলতুবি মামলার সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতুবি মামলার সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৬২ লাখে। অধস্তন ও জেলা আদালতে ৪.৫ কোটি এবং সুপ্রিম কোর্টে ৮০,০০০-এর বেশি। দেশে সমস্ত আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫.১ কোটি ছাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন:
মজার বিষয় হল, অর্ধেকের বেশি শূন্যপদগুলিতে নিয়োগ না হওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, হাইকোর্ট কলেজিয়াম কোনও সুপারিশ পাঠায়নি। ফলে বিচারপতি নিয়োগও বিলম্বিত হয়েছে। যদিও কোন বিচারপতির পদ শূন্য হওয়ার ৬ মাস আগে থেকেই প্রস্তাব আসা শুরু হয়ে যায়। দেশের বৃহত্তম হাইকোর্ট ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। সেখানে ১৬০ জন বিচারপতি পদের মধ্যে ৬৯টি বিচারপতির পদ শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ ৪৩ শতাংশ পদশূন্য। গুজরাট হাইকোর্টে শূন্যপদ ৪৪ শতাংশেরও বেশি, পাটনা এবং রাজস্থানে শূন্যপদ ৩৬ শতাংশ।
পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে মোট বিচারপতি সংখ্যা ৮৫। সেখানে ৩০টি শূন্যপদ রয়েছে। বোম্বে হাইকোর্টে ২৬টি শূন্যপদ রয়েছে, এই আদালতে বিচারপতির মোট সংখ্যা ৯৪। কলকাতা ও গুজরাট হাইকোর্টে ২৩টি করে শূন্যপদ রয়েছে।আরও পড়ুন:
গত বছরের ডিসেম্বরে উচ্চ আদালতে এই বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ নিয়ে সাংসদদের উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল সংসদে বলেন, কলেজিয়ামের সুপারিশ কেন্দ্রের কাছে ঠিক সময়ে না পৌঁছনোয় শূন্যপদে নিয়োগে দেরি হচ্ছে। হাইকোর্ট কলেজিয়াম শূন্যপদের নিয়োগের সুপারিশ শুরু করার সময়সীমা অনুসরণ করছে না। ফলে হাইকোর্টের কলেজিয়ামের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে ১৯৮টি শূন্যপদের জন্য কোনও সুপারিশ করেনি। যারফলে এই সমস্যার উৎপত্তি হয়েছে।