পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: অসমে বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ তথ্য জানান।
নতুন এসওপি অনুযায়ী, জেলা শাসক (DC) এবং অতিরিক্ত জেলা শাসকরা (ADC) বিদেশি সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার নির্দেশ জারি করার ক্ষমতা পাবেন। তবে তার আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ১০ দিনের সময় দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, “যদি জেলা শাসক নিশ্চিত হন যে ব্যক্তি বিদেশি, তাহলে দশম দিনেই বহিষ্কার নির্দেশ জারি হবে।” এই প্রক্রিয়ায় আর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল (FT)-এর কাছে নতুন মামলা পাঠানো হবে না, ফলে বহিষ্কার কার্যক্রম আরও দ্রুত হবে। তবে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে।
শর্মা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থা যদি কাউকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে শনাক্ত করে, তবে তাকে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ১০ দিনের সময় দেওয়া হবে।
যদি প্রমাণ যথেষ্ট না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করে ইমিগ্রান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট, ১৯৫০-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী বহিষ্কার নির্দেশ দেবেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট পথে তাকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
যেসব ‘ডাউটফুল ফরেন ন্যাশনালস (DFNs)’ ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালে শনাক্ত হয়েছেন এবং সব আইনি পথ শেষ করেছেন, তাদের সরাসরি বহিষ্কার করা হবে। বহিষ্কারের পর তাদের বায়োমেট্রিক ও জনতাত্ত্বিক তথ্য ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টাল-এ নথিভুক্ত করা হবে।
যদি কোনো অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার মানতে অস্বীকার করেন, তবে তাকে আটক কেন্দ্রে পাঠানো হবে বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। আর যারা সীমান্ত শূন্য রেখার কাছে বা প্রবেশের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ধরা পড়বে, তাদের সঙ্গে সঙ্গে ফেরত পাঠানো হবে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, বর্তমানে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে চলমান ৮২ হাজার মামলা আগের নিয়মেই চলবে, নতুন এসওপি সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তিনি দাবি করেন, এতদিনে মোট ৩০ হাজার ১২৮ জন বিদেশিকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যদিও এর সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি।
শেষ আপডেট:
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৩