প্রথম দফার ভোটের আগে প্রচারের শেষ পর্যায়ে বীরভূমের মুরারইয়ের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ঝাড়গ্রামে প্রচারের সময় মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে আক্রমণ করেন তিনি। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলে দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
রবিবার ঝাড়গ্রামের এক প্রচারসভা শেষে স্থানীয় এক দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, তিনি পকেট থেকে ১০ টাকার নোট বের করে ঝালমুড়িওয়ালাকে দিচ্ছেন। সেই ঘটনাকেই নিশানা করে সোমবার মুরারইয়ের সভা থেকে মমতা বলেন, “১০ টাকা কখনও পকেটে থাকে ওঁর?
কত নাটক! নির্বাচনের সময় কখনও গুহায় গিয়ে বসে থাকেন, কখনও বলেন আমি চাওয়ালা।”আরও পড়ুন:
মমতার অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং ক্যামেরার সামনে দেখানোর জন্য সাজানো হয়েছিল। তাঁর কথায়, “১০ টাকা বের করে ঝালমুড়ি খাচ্ছে, সেটাও নিজেদের তৈরি করা। নয়তো দোকানে আগে থেকে ক্যামেরা ফিট করা ছিল কীভাবে?” এমনকি ঝালমুড়ি এসপিজি-র মাধ্যমে তৈরি করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
শুধু মোদীই নন, এ দিন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তিনি দাবি করেন, ভোটের আগে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং সেই সংক্রান্ত তালিকাও তাঁর হাতে এসেছে। হুঁশিয়ারির সুরে মমতা বলেন, “আমরাও আদালতে যাব, ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব।”
আরও পড়ুন:
দলের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, এবারের নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তাঁর কথায়, “লোকসভায় বিজেপিকে পরাস্ত করেছি, ২০২৬-এ বাংলায় জিতে দিল্লি থেকে বিজেপিকে হঠাব।” ভোটের দিন এবং গণনার দিন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশও দেন তিনি।
আরও পড়ুন:
গণনার সময় যাতে কোনও গাফিলতি না হয়, সেজন্য কর্মীদের আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন মমতা। তিনি বলেন, “ভোটের দিন আর কাউন্টিংয়ের দিন দরকার হলে রান্না হবে না, আগের দিন রান্না করে জল দিয়ে রাখবেন।” অর্থাৎ বুথ ও গণনাকেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত নজরদারি রাখার ওপরই তিনি জোর দেন।
আরও পড়ুন:
এ দিন মুরারইয়ের সভা থেকে স্থানীয় উন্নয়ন নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বহুদিনের দাবি মেনে দ্বারকা নদীর উপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি। জানান, ৫৬ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে এই সেতু তৈরি হবে এবং নির্বাচন শেষ হলেই কাজ শুরু হবে।
আরও পড়ুন:
ভোটের মুখে মুরারইয়ের সভা থেকে মমতার এই আক্রমণাত্মক বার্তা স্পষ্ট করে দিল, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করতেই চাইছে তৃণমূল।