পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সুরাটের উধনা রেল স্টেশনে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা। রবিবার হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের ভিড়ে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় স্টেশন চত্বর। বিহার ও উত্তরপ্রদেশগামী বিশেষ ট্রেনে উঠতে গিয়ে হুড়োহুড়ি, ব্যারিকেড ভাঙা এবং পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জও করতে হয়েছে। গরম এবং ভিড়ের চাপে নারী ও শিশুসহ বহু যাত্রী শ্বাসকষ্ট ও ডিহাইড্রেশনে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন:
সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে বিহারগামী একটি বিশেষ ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল। সেই ট্রেনে ওঠার জন্য প্রায় ২৩,০০০ যাত্রী স্টেশনে জমায়েত হন। রেল পুলিশের তৈরি করা ব্যারিকেড ভেঙে শ্রমিকরা হুড়মুড়িয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, স্টেশনে তিল ধারণের জায়গা নেই এবং মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে।
এক ব্যক্তিকে হতাশ হয়ে বলতে শোনা যায়, "আমি আর ফিরব না, ওদের বলে দিও।" যাত্রীদের অভিযোগ, তাঁদের ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় খাবার ও জল ছাড়া লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। ট্রেনের ভেতরেও তিল ধারণের জায়গা ছিল না, বহু মানুষকে দাঁড়িয়েই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।আরও পড়ুন:
পশ্চিম রেলওয়ের জনসংযোগ আধিকারিক (PRO) বিনীত অভিষেক জানান, গরমের ছুটি এবং বিয়ের মরসুম হওয়ায় যাত্রীদের চাপ অস্বাভাবিক বেশি ছিল। তবে পরিযায়ী শ্রমিকদের দাবি, কেবল ছুটি নয়, অন্য কিছু সমস্যাও তাঁদের বাড়ি ফিরতে বাধ্য করছে।
সুরাটে এলপিজি গ্যাসের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে অনেকেই রান্না করতে পারছেন না। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে সুরাটের শিল্পাঞ্চলগুলোতে কাজের সুযোগ কমে গেছে। অনেক শ্রমিকই জানিয়েছেন, কাজ কম থাকায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় তাঁরা গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন।আরও পড়ুন:
রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ভিড় সামাল দিতে অতিরিক্ত সাতটি টিকিট কাউন্টার এবং বিশেষ ট্রেন চালানো হয়েছিল। বিনীত অভিষেক বলেন, "কিছু অবাধ্য যাত্রী নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করায় বিপত্তি ঘটে, তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।" সোমবার পশ্চিম রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক এবং উত্তর ভারতগামী ট্রেনগুলো সময়মতো চলাচল করছে।