পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বঙ্গে প্রথম দফার ভোটের আর বেশি দেরি নেই। এরইমধ্যে ভোটমুখী বাংলায় প্রচার এখন তুঙ্গে। বঙ্গে প্রচারে আসছেন বিজেপির হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতারা। যে তালিকায় রয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই আবহে হিমন্তের কিছু মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মন্তব্য উস্কানিমূলক।
আরও পড়ুন:
জলপাইগুড়ি সদর এলাকার মণ্ডলঘাটের সিপাই পাড়ায় প্রচারে গিয়ে হিমন্ত বলেন, তাঁর নাম নিয়ে আক্রমণ হচ্ছে এবং তাঁর বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। দিদি এখন ভাষণে আমার নাম নেওয়া শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, "একটা গুলি মারলে আমি চুপ করে থাকব না। বিজেপিকে একটা গুলি চালালে, আমি ২ টো গুলি চালাব। বাংলায় যেমন থানা আছে অসমেও পুলিশ আছে। সামনাসামনি টক্কর হবে।
তাঁর এই বক্তব্যকে অনেকেই উসকানিমূলক বলে কটাক্ষ করেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন দায়িত্বশীল নেতার মুখে এমন ভাষা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়েছে। দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার কড়া ভাষায় বলেন, এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং এতে রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। এর পরের দিন পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের গৌরবাজারে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারি'র সমর্থনে রোড শো করেন হিমন্ত। সেখানে তিনি মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধী দলগুলিকে আক্রমণ করে বলেন, কংগ্রেস, ডিএমকে এবং তৃণমূল মিলে এই বিল আটকে দিয়েছে। তাঁর দাবি, এর জবাব দেশের মহিলারা ভোটের মাধ্যমে দেবেন।আরও পড়ুন:
নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হিমন্ত আরও বলেন, রাজ্যের অপরাধীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করা উচিত, না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর জবাবে পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেন, বিজেপি ভোটে জিততে না পেরে অন্য পথ খুঁজছে। তিনি আরও দাবি করেন, অসমে নির্বাচনের আগে যে আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। একই সঙ্গে তিনি হিমন্তকে ভোটের পর মিষ্টি খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান, ইঙ্গিত দেন ফলাফল নিয়ে তাঁদের আত্মবিশ্বাসের দিকেই।