ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে নতুন করে সুসংহত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে ঢাকা। সেই লক্ষ্যেই আজ দিল্লি সফরে আসছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ক্ষমতায় আসার মাত্র দু’মাসের মধ্যেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা দিতে চাইছে নতুন সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান।
এই সফরের সূচনাতেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন খলিলুর রহমান। নিরাপত্তা সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি— এই সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসবে।

বিশেষ করে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে জঙ্গি অনুপ্রবেশ কমার বিষয়টি নতুন সরকারও বজায় রাখবে বলে আশা প্রকাশ করবে দিল্লি।
একই সঙ্গে ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা এবং ভারত-বিরোধী মনোভাবের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।
বুধবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সূচি রয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়েল এবং পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী-র সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করবেন তিনি। পাশাপাশি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে তাঁর বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দুই দেশের মধ্যে একাধিক বকেয়া চুক্তির পুনর্নবীকরণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে ফরাক্কায় গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে। ফলে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্যদিকে তিস্তা জলবণ্টন ইস্যুতে বাংলাদেশ আগ্রহী হলেও, আপাতত এই বিষয়ে তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না ভারত।
সব মিলিয়ে, সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক বার্তা দিলেও সতর্ক পদক্ষেপেই এগোতে চাইছে দিল্লি।