পুবের কলম, ওয়েব ডেস্কঃ ভারত-পাক সংঘাতের রেশ এখনও কাটেনি। পালটা বাদানুবাদ চলছে দুই দেশের মধ্যেই। এরই মাঝে পাকিস্তান সীমান্তে ফের চালু হচ্ছে ভারতের ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান ‘বিটিং রিট্রিট’। সাময়িক সংঘাতের জেরে দীর্ঘ ১২ দিন ধরে বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পাঞ্জাব সীমান্তে তিনটি চেকপোস্টে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।

সেই উত্তেজনার এক পর্যায়ে গত ৭ মে পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে বিমান হামলা চালায় সেনাবাহিনী। এর মধ্যদিয়ে দুই দেশের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা শুরু হয়।

পরদিন ৮ মে থেকে সীমান্তে বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় কেন্দ্র। সেই সঙ্গে বন্ধ করা হয় পাক রেঞ্জার্সের সঙ্গে বিএসএফের করমর্দনের আনুষ্ঠানিকতাও। তবে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিএসএফের পতাকা নামানোর অনুষ্ঠান চালু ছিল।

চারদিনের তীব্র হামলা পাল্টা হামলার পর গত ১০ মে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সীমান্ত পরিস্থিতি এখন অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আটারি-ওয়াঘা (অমৃতসর জেলা), হুসাইনিওয়ালা (ফিরোজপুর জেলা ) ও সাদকি (ফাজিলকা জেলা) চেকপোস্টে ফের প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।

এই তিনটি  চেকপোস্টে যৌথভাবে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি সন্ধ্যায় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। বিটিং রিট্রিট চালু হলেও পাকিস্তানের সঙ্গে করমর্দন নয়।

অর্থাৎ সীমান্ত গেট খোলা হবে না। পাকিস্তানের রেঞ্জার্স বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি হবেও না বিএসএফ। হাত মেলানো সম্পূর্ণ বন্ধ। বিএসএফ সূত্র জানিয়েছে, বিটিং রিট্রিটের আয়োজন শুধু সীমান্তের ভারতের অংশেই করা হবে। পাকিস্তান রেঞ্জারস বাহিনীর সঙ্গে কোনোরকম বিনোদন নয়। বিএসএফের পাঞ্জাব ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল অতুল ফুলজেল জানিয়েছেন, বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান ফিরে এলেও ঐতিহ্যবাহী প্রোটোকলের কিছু অংশ আপাতত স্থগিত থাকবে। কুচকাওয়াজের সময় সীমান্ত গেটগুলো খোলা হবে না এবং বিএসএফ এবং পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদস্যদের মধ্যে আগের মতো কোনো করমর্দন হবে না।