পুবের কলম প্রতিবেদক: দিন কয়েক আগেই রাজ্যে বেশ কিছু ভুয়ো ভোটার আছে দাবি করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মোট ২৪টি ব্যাগ বোঝাই নথি জমা দিয়ে বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছিল রাজ্যে ১৬ লক্ষের বেশি ভুয়ো ভোটার রয়েছে। যাদের নাম দুজায়গায় রয়েছে। বিজেপির এই দাবিকে নস্যাৎ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, বিগত এক বছর ধরে সমস্ত নথি দেখে আমরা ভোটার তালিকা তৈরি করেছি। যখনই কোনো অভিযোগ এসেছে তা খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

এই প্রসঙ্গে রাজীব কুমার বলেন, আপনারা সবাই জানান, ৫ জানুয়ারি ২০২৩-এ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছিল। তারপর এক বছর পর ৫ জানুয়ারি ২০২৪-এ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিনিয়ত সংশোধনী প্রক্রিয়া জারি ছিল। সেই সমস্ত নথি রাজনৈতিক দলগুলিকে কমিশন নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই পাঠিয়েছে। এরপর ২০২৩ সালের অক্টোবরে খসড়া ভোটার তালিকা তৈরি হয়। সেই তালিকাও রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া হয়েছিল।

এরপর একাধিকবার প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জেলাস্তরে বৈঠক করা হয়েছে। তাই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রতিটা পদক্ষেপ রাজনৈতিক দলগুলি জানেন। সবকিছু ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। তালিকায় ভোটারের নাম সংযোজন বা বিয়োজনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। সেই পদ্ধতি মেনেই যাবতীয় কিছু করা হয়েছে। তাদের যদি এরপরেও অভিযোগ থাকে তাহলে তাঁরা জেলাশাসক-পুলিশ সুপারদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই জেলাশাসক-পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা জেলাস্তরে প্রতিটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের কি সমস্যা আছে তা জেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেন।

উল্লেখ্য, সোমবার আটটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের যে বৈঠক হয়, সেই বৈঠকেও বিজেপির প্রতিনিধিরা দাবি করেছিলেন রাজ্যে প্রায় সতেরো লক্ষ ভুয়ো ভোটার রয়েছে। তবে, সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজীব কুমারের এই বক্তব্যে এটা একরকম স্পষ্ট হয়ে গেল যে, বিজেপির ভুয়ো ভোটারের দাবি সম্পূর্নভাবে নস্যাৎ করছে নির্বাচন কমিশন। প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ৫ জানুয়ারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তবে এবছর একটু দেরি করে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। মোট ষোলো দিন পর ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।