দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন:  বাবার অচল গাড়ির পরিত্যক্ত পার্টস, ইঞ্জিন আর হাতের কাছে সহজলভ‍্য জিনিস কাজে লাগিয়ে নতুন ডিজাইনের বাইক তৈরি করে তাক লাগালো বিশ্বভারতীর শিক্ষাসত্রের একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞানশাখার ছাত্র রূপম সরকার। নিজের তৈরি বাইক চালিয়ে ইস্কুলে এসেছে। ছবিতে ইস্কুলের ছেলেমেয়েদের যথেষ্ট উৎসাহ সহকারে তার তৈরি করা এই বাইকটি পর্যবেক্ষণ ক'রতে দেখা যাচ্ছে। নতুন ডিজাইনের বাইক তৈরি করা রূপমের শখ ও স্বপ্ন।

রূপমের বাবা ইন্দ্রনারায়ণ সরকার ফাইনানস কোম্পানি কর্মী। আদি বাড়ি ইলামবাজার ব্লকের বাতিকার গ্রামে।

বর্তমানে কর্মসূত্রে বোলপুর লাগোয়া সুরুল গ্রামের বাসিন্দা। সুরুল থেকে গ্রামের বাড়ি বাতিকার থেকে যাওয়ার জন্য ২০০৩ সালে একটি বাইক কেনেন ইন্দ্রনারায়ণ বাবু। দীর্ঘ দিন চালানোর পর ২০১৮ সাল থেকে আর গাড়িটি অচল হয়ে যায়। তাই গ্রামের বাড়িতে ফেলে রেখে দেন। রূপম স্কুলের ছুটিতে বাড়ি গেলেই ঐ গাড়িটাকে নিয়ে কাজ করতো।

আচমকা রূপমের মাথায় খেলে যায় গ্রামের বাড়ির অকেজ বাবার মটর বাইকটার কথা।

ওটাকে দিয়ে নতুন বাইক বানানো কথা বলতেই বাবা রাজি হয়ে যায়। সেই মত রূপম বাড়িতে ফেলে দেওয়া লোহার টুকরো, পাইপ, টিনের পাত জোগাড় করতে থাকে। বাবার পরিচিত পাড়ার মটর সাইকেল গ্যারেজ মিস্ত্রির কাছ থেকে কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে একদিন গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় রূপম। অকেজ মটর বাইক গোয়াল ঘর থেকে বের করে এনে শুরু হয় নতুন বাইক তৈরির কাজ।

বাবা ইন্দ্রনারাযন বাবু বলেন, "এই বয়সে এই প্রজন্মের ছেলেরা মোবাইলে মেতে থাকে। ও যখন বললো তোমার পুরানো অকেজো বাইক টা দিয়ে নতুন বাইক বানাবো।

বাড়ির সকলে বারন করলেও আমি বললাম বেশ কর। তাতেই তৈরি হল নতুন বাইক। ও ছোট বেলা থেকেই নানা ধরনের গাড়ি তৈরি করতে আগ্রহী।"

শিক্ষাসত্রের শিক্ষিকা তমালি মজুমদার বলেন, রূপম খুবই মেধার পরিচয় দিয়েছে তার এই উদ্ভাবনী প্রতিভার মাধ‍্যমে। প্রতিটি পার্টস এক এক করে লাগিয়ে সেই নিজেই এত সুন্দর কাজ করেছে। আমরা শিক্ষক শিক্ষিকা সবাই ওর এই সফলতায় খুব খুশি।