জঙ্গলমহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাইভোল্টেজ প্রচারের পর এবার পালটা ময়দানে নামছে তৃণমূল। ঝাড়গ্রামে মোদির ‘ঝালমুড়ি রাজনীতি’র জবাব দিতে নিজের প্রচারসূচি বদলে সেখানে সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার আদিবাসী অধ্যুষিত জঙ্গলমহলে পরপর চারটি সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রচার সভার মাধ্যমে তিনি আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। ঝাড়গ্রামের সভা শেষে স্থানীয় এক দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেয়ে এবং আশপাশের মানুষকে তা খাইয়ে জনসংযোগও করেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর নির্বাচনী কৌশল।

তবে মোদির এই ঝালমুড়ি খাওয়াকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। শাসকদলের অভিযোগ, “ঝালমুড়ি খেয়ে আদিবাসীদের মন জেতা যায় না, এটা নিছক ভোটের রাজনীতি।” তৃণমূলের মতে, আদিবাসী সমাজের পাশে থাকার বাস্তব কাজের বদলে বিজেপি প্রতীকী রাজনীতিতে জোর দিচ্ছে।
এই আবহেই মঙ্গলবারের প্রচারসূচিতে পরিবর্তন আনছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

আগে ওইদিন শুধুমাত্র বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় তাঁর সভা হওয়ার কথা ছিল। এখন সেই সূচিতে ঝাড়গ্রামকেও যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটের শেষ দিনে ঝাড়গ্রামের ভোটারদের কাছে সরাসরি বার্তা দিতে চাইছে তৃণমূল।
রবিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল আরও অভিযোগ তোলে যে, একই দিনে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রচারে আসা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন-এর সভা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। ঝাড়গ্রামে তাঁর হেলিকপ্টার নামার অনুমতি মেলেনি বলে দাবি তৃণমূলের।
দলের অভিযোগ, মোদির সভাকে অগ্রাধিকার দিতে বিরোধী শিবিরের প্রচারে প্রশাসনিক বাধা তৈরি করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে অভিষেকের ঝাড়গ্রাম সফর রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, জঙ্গলমহল এলাকায় আদিবাসী ভোটারদের সমর্থন দুই শিবিরের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মোদির প্রচারের পরপরই অভিষেকের সভা তৃণমূলের কৌশলগত পালটা পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গলমহলে এবার ভোটের লড়াই কেবল উন্নয়ন বা প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রতীকী বার্তার লড়াইও তীব্র হয়েছে। একদিকে মোদির ঝালমুড়ি খেয়ে জনসংযোগ, অন্যদিকে অভিষেকের সরাসরি সভা—দুই পক্ষই আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বিস্তারে সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে।
এখন দেখার, এই পালটা রাজনৈতিক কৌশলের লড়াইয়ে ঝাড়গ্রামের মানুষ শেষ পর্যন্ত কাকে বেশি ভরসা করেন।