পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ বিশিষ্ট লেখক দেভানুর মহাদেবের লেখা বই "আরএসএস আলা, আগলা" (আরএসএস- দ্য ডেপথ অ্যান্ড ব্রেডথ) ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। লেখক এই গ্রন্থে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। ভারতীয় সংবিধান এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর সমালোচনায় আরএসএস বার বার মুখর হয়েছে। দেবানুর তাঁর গ্রন্থে সেদিকে আলোকপাত করেছেন।
আরও পড়ুন:
নিজের বইতে লেখক আরএসএস-এর তিনটি মতাদর্শ তুলে ধরেছেন। সেই আদর্শ তাদের রাজনৌতিক চালিকা শক্তি বিজেপিকে দিয়ে গোটা দেশে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
আরও পড়ুন:
লেখক বলছেন আরএসএস কোনদিনই ভারতের সংবিধানকে মান্যতা দেয়নি। সংঘ কর্তারা বরাবর বলে এসছেন ভারতের সংবিধানের নিজস্বতা বলে কিছু নেই। বিশ্বব্যাপী নীতি ও আদর্শের সংকলন হল ভারতের সংবিধান।
এমনকি তেরঙ্গার বদলে জাতীয় পতাকা হোক গৈরিক সেটা বলতেও কোনদিন তাঁদের দ্বিধা ছিলনা।আরও পড়ুন:
এইদেশ হবে হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী। ভারত আর্যভূমি তাই হিন্দুরাই সেখানে বসবাসের অধিকারী। বাকি সব জাতি সংখ্যালঘু হয়ে হিন্দুত্বের জয়গান গাইবে এমনটাই ছিল মানসিকতা।
আরও পড়ুন:
আরএসএস পয়লা জানুয়ারী, ১৯৯৩তে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে যাতে ভারতের সংবিধানকে নিন্দা করা হয় এবং তাকে "হিন্দু-বিরোধী" বলেও অভিহিত করা হয়।
আরও পড়ুন:
লেখক দেবানুর মহাদেব আরও একটি পয়েন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। আরএসএস সবসময় চেয়েছে ভারতকে পূর্ণাঙ্গ আর্যভূমি হিসেবে দেখতে। যেখানে প্রতিষ্টিত হবে ব্রাহ্মণ্যবাদের আধিপত্য।
আরও পড়ুন:
দেবানুর মহাদেব দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন "ভগবদগীতা দাসত্বের একটি হাতিয়ার।
"তিনি আরও বলছেন ভারতের আসল নিয়ন্ত্রণ নাগপুরে আরএসএস সদর দফতরে যারা বসে তাদের হাতে।আরও পড়ুন:
কীভাবে ভারতকে দেখতে চায় তা খুব সম্প্রতি বিজেপির পাঠ্যপুস্তক সংশোধন এবং ধর্মান্তরণ বিলের মধ্যে দিয়েই দিনের আলোর মত স্পষ্ট।
আরও পড়ুন:
আরএসএস যেভাবে বিজেপিকে মাধ্যম করে দেশজুড়ে বর্ণাশ্রম প্রথা ফিরিয়ে আনার বন্দোবস্ত করছে তাকেও তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন দেবানুর । দেবানুর বলছেন এখনও সময় আছে এই বিপদজনক প্রবণতার বিরুদ্ধে সবার সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে।
আরও পড়ুন:
বইটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর একটি পৃথক অধ্যায় রয়েছে। যেখানে তাকে "উৎসব মূর্তি" (উৎসবের দেবতা) বলে অভিহিত করা হয়েছে।আসলে যেভাবে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর যেভাবে মূর্তি বন্দনা করেছেন সেটাকেই বিঁধেছেন লেখক। লেখক তীব্র সমালোনা করে বলেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী আসলে সবসময় প্রচারের আলোয় থাকতে ভালোবাসেন। মোদি চান ক্যামেরার সব ফোকাস তাঁকেই ঘিরে থাকুক।
আরও পড়ুন:
"আরএসএস: আলা মাত্তু আগলা" বইটি ৭২ পৃষ্ঠার একটি পাতলা পুস্তিকা। দাম মাত্র ৪০ টাকা। এখন পর্যন্ত ৪০,০০০কপি বিক্রি হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুস্তিকাটি ঘুম কেড়ে নিয়েছে আরএসএস এবং বিজেপির। ২০২৩ সালে কর্ণাটক বিধানসভার নির্বাচন। কিন্তু তার আগেই যেন উগ্র হিন্দুত্বের গালে সপাটে চপেটাঘাত দেবানুরের এই বই। ইতিমধ্যেই কর্ণাটকে তা নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি লেখককে গ্রেফতারের দাবিও উঠেছে। যদিও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিমধ্যেই এই বই অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। আগামী মাসে বইটি এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই বইয়ের রেকর্ড বিক্রির ফলে প্রকাশকদের মুখে হাসি ফুটেছে।