পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক:  রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে বিজেপি সরকার। অবিলম্বে আস্থাভোট করা হোক । নায়ব সিং সাইনির সরকার এখন সংখ্যালঘু। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে মুখ্যমন্ত্রী সাইনিকে।  এই দাবিতে হরিয়ানায় আস্থাভোট চাইলেন জেজেপি প্রধান দুষ্মন্ত চৌটালা। মুখ্যমন্ত্রী বদলেও সরকার বাঁচানো গেল না হরিয়ানায়! এমনটাই মনে করছে ওয়াকিফহাল মহল। বলা বাহুল্য, তিনজন স্বতন্ত্র বিধায়ক ক্ষমতাসীন বিজেপি থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার এবং কংগ্রেসের 'হাত' ধরার পর এদিন বিজেপির প্রাক্তন জোটসঙ্গী জননায়ক জনতা পার্টি (জেজেপি) কংগ্রেসের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। হরিয়ানায় বিজেপি সরকারকে নাস্তানাবুদ করার জন্য কংগ্রেসকে সাহায্য করতে প্রস্তুত বলেই এদিন জানান।

https://twitter.com/BhupinderShooda/status/1787841260591407449?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1787841260591407449%7Ctwgr%5E7d45ad4960ae05f75f023a07abe84d4ea70efa4d%7Ctwcon%5Es1_c10&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.nationalheraldindia.com%2Fpolitics%2Fharyana-jjp-offers-support-to-congress-to-oust-bjp-government

গত কয়েক মাস ধরে ওই রাজ্যে রাজনৈতিক ঘনঘটা লেগেই রয়েছে। হরিয়ানায় বিজেপির ‘হাত’ আগেই ছেড়েছেন দুষ্মন্ত চৌটালা। সরকার বাঁচাতে তড়িঘড়ি মনোহর লাল খট্টরকে সরিয়ে দেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হন নায়েব সিং সাইনি। এরই মাঝে ‘আতঙ্কের’ মেঘ ফের ঘনিয়ে এসেছে হরিয়ানায়। গত মঙ্গলবার হরিয়ানার বিজেপি সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন তিন নির্দল বিধায়ক। সোম্বীর  সাঙ্গওয়ান, রণধীর গোল্লেন ও ধরমপাল গোন্দের এই তিন বিধায়ক পদ্মের ‘হাত’ ছেড়ে দাঁড়িয়েছেন কংগ্রেসের পাশেই। আর সেই সুযোগে বিজেপিকে হটাতে খড়্গহস্ত জেজেপি প্রধান দুষ্মন্ত চৌটালা।

বৃহস্পতিবার হরিয়ানার রাজ্যপাল বন্দারু দত্তাত্রেয়াকে একটি চিঠি দিয়েছেন তিনি। তাতে তিনি হরিয়ানা বিধানসভায় আস্থা ভোট  আয়োজনে রাজ্যপালের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। আর এই চিঠি রাজ্যের নায়েব সিং সরকার নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের কফিনের শেষ পেরেক হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী চৌটালা চিঠিতে রাজ্যপালকে লিখেছেন, আমি আপনাকে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে অবিলম্বে ফ্লোর টেস্ট করানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।  আগামী ২৫ মে ষষ্ঠ দফায় সে রাজ্যের ১০টি লোকসভা কেন্দ্রের সবক’টিতে ভোটগ্রহণ।

https://twitter.com/JJPofficial/status/1788116921251922132?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1788116921251922132%7Ctwgr%5E7d45ad4960ae05f75f023a07abe84d4ea70efa4d%7Ctwcon%5Es1_c10&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.nationalheraldindia.com%2Fpolitics%2Fharyana-jjp-offers-support-to-congress-to-oust-bjp-government

যদিও সূত্রের দাবি, তাঁর দলেরই জনা চারেক বিধায়কের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে বিজেপি। অনেকে মনে করছেন, নিজের দল আদৌ ঐক্যবদ্ধ কিনা সেটা যাচাই করতেই আস্থাভোট ডাকলেন জেজেপি প্রধান।

হরিয়ানা বিধানসভায় (৯০ সদস্যের মধ্যে) বর্তমানে ৮৮ জন রয়েছেন।

৯০ আসনের হরিয়ানা বিধানসভার ম্যাজিক ফিগার ৪৫। তাঁদের মধ্যে ৪০ জন বিজেপির বিধায়ক। আরও দুজন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বিজেপির সঙ্গে। অন্যদিকে কংগ্রেসের হাতে ৩০ বিধায়ক, জেজেপির হাতে ১০ বিধায়ক এবং ৫ জন নির্দল বিরোধী শিবিরে। জেজেপি ও নির্দল বিধায়কদের সমর্থন ছিল সরকারের দিকে। তারা সরে যাওয়ায় নায়েব সিং সাইনির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বর্তমানে সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে। সেই কারণে গত মঙ্গলবার রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিও জানান কংগ্রেস নেতৃত্ব। আর কিছুদিনের মধ্যেই হরিয়ানায় বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু তার আগেই বিজেপি সরকারের পতন ঘটবে বলেই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।