আরও পড়ুন:
আইভি আদক, হাওড়া: ১৫ বছর ধরে হারানো সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন মা। বাবা আজও হন্যে হয়ে খুঁজে চলেছেন তার পাঁচ বছরের ছোট্ট ছেলেটিকে। দুপুরে ঘর থেকে বেরিয়ে পাশের কলের থেকে জল আনতে গিয়েছিল ছেলেটি। তারপর থেকে আর খোঁজ পাওয়া যায়নি আজও। শুধু এই একটি ঘটনা নয়, এ ধরনের মোট ১৪টি শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছিল হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার অন্তর্গত পিলখানা অঞ্চলে। ২০০৭ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ১৪টি বাচ্চা নিখোঁজ হয়েছিল ওই এলাকা থেকে।
যাদের আজ পর্যন্ত কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অনেকেই মনে করেন এর পিছনে কোনও আন্তঃরাজ্য পাচার চক্র কাজ করেছিল। তবে সে বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে কোনও তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে, বাগুইআটির ঘটনার পরে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। একই রকম অভিযোগ তুলেছেন পিলখানা এলাকা থেকে ২০০৭ সালে নিখোঁজ শিশুর মা-বাবা।আরও পড়ুন:
ঘটনার দিন সকালে নিজের সন্তানকে পরিবারের সদস্যদের হাতে দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়ে কাজে বেরিয়েছিলেন পিলখানার বাসিন্দা অনিতা সাবরি।
বাড়ি ফেরেন দুপুর ১টা নাগাদ। বাড়ি ফিরে বাচ্ছাকে না দেখতে পেয়ে বাড়ির লোকেদের জিজ্ঞেস করেও কোনো সদুত্তর পাননি। তারপরে জানতে পারেন তাঁর বাচ্চাটির চাচি তাঁকে বাইরের চাপা কল থেকে জল আনতে পাঠিয়েছিলেন। এরপর আর কোনোদিনও ঘরে ফেরেনি তাঁর ছেলে। তিনি অভিযোগ করে বলেন তাঁরা গরিব বলে তাঁদের অনেক হয়রানি হতে হয়েছে পুলিশের কাছে। তদন্ত হচ্ছে হচ্ছে করে অনেক দিন কেটে গেলেও তাঁর বুকে আর ফিরে আসলো না তাঁর সন্তান। এখন তার বয়স প্রায় কুড়ি বছর হবে বলেই দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছেও দরবার করেছেন। তাঁর কথায় গরিব বলে শুধু চিৎকার আর দৌড়ঝাঁপ করে বসে যেতে হয়েছে। কোনওভাবেই তাঁরা ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পারেননি এটাই তাঁর আক্ষেপ।আরও পড়ুন:
হারিয়ে যাওয়া শিশুটির বাবা মহম্মদ সাবির আনসারি আক্ষেপ নিয়ে বলেন তাঁর বৃদ্ধ বয়সের ভরসা ছিল তাঁর সন্তান। আজকে তাঁর মতো আরও তেরোজনের ভরসাটুকু ভেঙে গেছে। পুলিশ প্রশাসনের গা ছাড়া মনোভাবের ফলশ্রুতিতে আজও ঘরে ফেরা হয়নি পাঁচ বছর বয়সী সাকিল আনসারির মতো অনেক ছোট্ট ফুলের মতো শিশুরা।