পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ৩৬ ঘন্টারও বেশি সময় পার, ভয়ঙ্কর দাবানলে জ্বলছে নৈনিতালের জঙ্গল। সময় যত এগোচ্ছে বীভৎস পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রমশই বাড়ছে আতঙ্ক। ইতিমধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে উত্তরাখণ্ড সরকার। মাঠে নেমেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। কপ্টার থেকে জল ছড়ানো হচ্ছে। পাশে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যাতে এই আগুন ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য প্রশাসনের তরফে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিপন্ন বন্যপ্রাণেরাও। দাবানলের ফলে নৈনিতালের লেকে বন্ধ রাখা হয়েছে বোটিং।

এই খবর লেখা পর্যন্ত কোনও হতা-হতের খবর পাওয়া যায়নি।

উত্তরাখণ্ডের বন দফতর সূত্রে খবর, কুমায়ুন এবং গাড়োয়াল অঞ্চলের ৩৩.৩৪ হেক্টর বনভূমি দাবানলের গ্রাসে পড়েছে। জাকোলি এবং রুদ্রপ্রয়াগে জঙ্গলে আগুন লাগানোর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজনের দাবি, পোষ্য ভেড়ারা যাতে নতুন ঘাস পেতে পারে তাই ফাঁকা জঙ্গলে আগুন ধরিয়েছিল।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, নৈনিতালে দাবানল এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণে আনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। হাইকোর্ট কলোনির লাগোয়া নৈনিতালের জঙ্গলের দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে এমআই ১৭–ভি ফাইভ হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জল ঢালার কাজ শুরু হয়েছে।

এই দাবানল চিন্তা বাড়িয়েছে কারণ পাশে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানঘাঁটি। প্রশাসন সূত্রে খবর, শেষ ২৪ ঘন্টায় ৩১টি নতুন দাবানলের খবর পাওয়া গিয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩.৩৪ হেক্টর জঙ্গল। ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত ৫৭৫টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে উত্তরাখণ্ডে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৮৯.৮৯ হেক্টর জঙ্গল।

নৈনিতালের বলদিয়াখান, জোলিকোট, মঙ্গোলি, খুরপাতাল, দৈবীধুরা, ভবালী, পাইন্স, ভীমতাল এবং মুক্তেশ্বর সহ একাধিক এলাকায় দাবানলের খবর পাওয়া গিয়েছে। ২৬ এপ্রিল থেকে দ্রুতহারে আগুন বাড়তে শুরু করেছে। পাইন্স এলাকায় অবস্থিত হাইকোর্ট কলোনী পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে দাবানলের আগুন।

হাইকোর্টের সহায়ক রেজিস্ট্রার অনীল জোশী জানিয়েছেন, দাবানলের আগুন পাইন্স এলাকার একটি খালি বিল্ডিংয়ে লেগে যায়। সেইখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও হাইকোর্ট কলোনীতে এখনও কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জানা গেছে, যে খালি বিল্ডিংটিতে আগুন ধরে গিয়েছে সেটি আইটিআই-এর। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সেটি খালি পড়ে পড়ে ছিল।

নৈনিতাল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বন্দনা সিং বনদফতর, দমকল, নিরাপত্তা বাহিনী, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা, জেলা পঞ্চায়েত এবং পুলিশ সহ বিভিন্ন বিভাগকে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সব রকম চেষ্টা করার নির্দেশ দিয়ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, দাবানলের কারণে নৈনিতাল-ভাওয়ালি সড়ক ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। স্থানীয়দের মধ্যে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। যান চলাচল বিপর্যস্ত। পুলিশ অনেক গাড়িকে ঘুরপথে যেতে অনুরোধ করছে।যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নৈনিতাল ও ভীমতাল লেক থেকে জল এনে আগুন নেভানোর কাজ চলছে।