গাজা, ২০ ফেব্রুয়ারি: যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় প্রথমবারের মতো চার নিহত ইসরাইলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। মৃতদেগুলোর মধ্যে শিরি বিবাস(৩২) এবং তার দুই ছেলে, ৪ বছর বয়সী আরিয়েল ও ৯ মাস বয়সী কেফিরও রয়েছে। চতুর্থ মৃতদেহটি ৮৩ বছরের ওদেদ লিফশিৎজের বলে জানা গেছে। তিনি একজন শান্তি কর্মী ছিলেন। গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলার কারণেই এসব জিম্মি প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে হামাস।
আরও পড়ুন:
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তারা জিম্মিদের রক্ষা করতে এবং তাদের জীবন বাঁচাতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তবে ইসরাইলের নৃশংস এবং ক্রমাগত বোমাবর্ষণের কারণে তারা অনেক জিম্মিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে পারেনি। জিম্মিদের পরিবারকে সরাসরি সম্বোধন করে হামাস বলছে, ‘ আপনাদের পরিবারের সদস্যদের জীবিত ফিরিয়ে দিতে পারলেই আমরা খুশি হতাম। আপনারা এমন একটি নেতৃত্বের অধীনে ছিলেন যার নেতারা নিজের লোকজনকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।’
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার হামাস এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর বিপুল সংখ্যক মুখোশধারী এবং সশস্ত্র যোদ্ধাসহ হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণ গাজা শহর খান ইউনিসের উপকণ্ঠে হস্তান্তর স্থানে জড়ো হয়েছিল।
যেখানে বড় বড় ব্যানার লাগানো হয়েছিল, যার মধ্যে একটিতে ইসরাইলি পতাকায় মোড়ানো কফিনের ছবি ছিল। বৃষ্টিপাতের মাঝেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনি মরদেহ হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া দেখার জন্য উপস্থিত হন। হামাস সদস্যরা রেড ক্রসের ট্রাকে সাদা চাদরে ঢাকা কালো রঙের কফিনগুলো উঠিয়ে দেয়। কফিনে আরবি, হিব্রু এবং ইংরেজিতে স্লোগান লেখা ছিল। কফিনগুলো প্রথমে রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে গাজার অভ্যন্তরে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।আরও পড়ুন:
এদিকে শনিবার আরও ছয় জিম্মিকে জীবিত অবস্থায় মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। জীবিত থাকা জিম্মিরা হলেন এলিয়া কোহেন, তাল শোহাম, ওমর শেম টভ, ওমর ওয়েনকের্ট, হিশাম আল-সায়েদ ও আভেরা মেঙ্গিতসু। এখন পর্যন্ত চুক্তির প্রথম পর্যায়ের ৩০ দিনে ১৯ ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। অপরদিকে, এক হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। পরবর্তী ১২ দিনে আরও ১৪ ইসরাইলি জিম্মি মুক্তি পাবেন।