আরও পড়ুন:
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ, শনিবার পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত শুনানির শেষ দিন। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, এখনও প্রায় ২২ লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি, ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়া কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সেই কারণে শুনানির সময়সীমা বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যদিও শুক্রবার রাত পর্যন্ত এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরে কোনও সরকারি নির্দেশিকা এসে পৌঁছায়নি। সূত্রের খবর, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর কলকাতা এবং কার্শিয়াং জেলায় এখনও শুনানির কাজ অনেকটাই বাকি রয়েছে।
ইতিমধ্যেই ওই জেলাগুলির তরফে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে সিইও দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে বিধানসভা ভিত্তিক শুনানির অসম্পূর্ণ তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই তথ্য হাতে পাওয়ার পর শনিবারই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানাবেন সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র যেসব বিধানসভায় শুনানি শেষ হয়নি, সেখানেই সীমিত পরিসরে সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় শুনানি সম্পূর্ণ হয়েছে, সেখানে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির কাজ চলবে। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ১৪ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করাই মূল লক্ষ্য। শুরুতে শুনানির গতি ধীর থাকায় গোটা প্রক্রিয়া পিছিয়ে পড়ে। তবে গত কয়েক দিনে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়েছে, ফলে কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি এবং আনম্যাপড ভোটার মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৩৫ জনকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে, অর্থাৎ এখনও প্রায় ২২ লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি। এছাড়া, এখন পর্যন্ত হওয়া শুনানির মধ্যে ৮০ লক্ষের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়েছে, ফলে যাচাই বাকি প্রায় ৭২ লক্ষের তথ্য। সম্পূর্ণ তথ্য আপলোডের কাজও এখনও শেষ হয়নি—শুনানি হওয়া মামলার ৮০–৮৫ শতাংশ তথ্যই আপলোড হয়েছে।আরও পড়ুন:
এদিকে, কমিশন সমস্ত জেলাকে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, শুনানিতে জমা দেওয়া নথি ভুয়ো প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে জেল ও জরিমানার মুখে পড়তে হবে। ভুয়ো নথি পেলেই অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় নোটিসের পরও প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ ভোটার শুনানিতে হাজির হননি। ফলে তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। এই ভোটারদের কারণ জানিয়ে পৃথক নোটিস পাঠানো হবে। শেষ পর্যন্ত এই সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।