শ্রীনগর: পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর অবৈধ ভাবে এক মুসলিম বৃদ্ধাকে পাকিস্তানে নির্বাসিত (ডিপোর্ট) করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ৬৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা রাকশান্দা রশিদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দিল জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট। এদিন আদালত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছে ওই বৃদ্ধাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার।
প্রসঙ্গত, ৬৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা গত ৩৮ বছর ধরে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে জম্মুতে বসবাস করছিলেন। পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর তাঁকে পাকিস্তানে নির্বাসিত করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে বৃদ্ধার পরিবার। স্ত্রীকে দেশে ফেরাতে হাইকোর্টের দারস্থ হন বৃদ্ধার স্বামী রশিদ। তিনি আদালতকে জানান, তার স্ত্রী নানাবিধ রোগে ভুগছেন এবং পাকিস্তানে তার কোনো পরিবার নেই। এরপরই রাকশান্দাকে দেশে ফেরানোর আর্জি জানান রশিদ।
বৃদ্ধার মেয়ে ফালাক জহুর শেখের বক্তব্য, নির্বাসনের পর থেকে মা একাই লাহোরের একটি হোটেলে রয়েছে। এদেশ থেকে নির্বাসনের সময় মায়ের কাছে যে অল্প টাকা ছিল তা শেষ হওয়ার পথে। ফলে মা কিভাবে সেখানে একা থাকবেন? কি খাবেন? তাকে কে দেখাশোনা করবে? এনিয়ে আমরা চিন্তিত।
কেন্দ্রের অবৈধ নির্বাসন নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন বৃদ্ধার পরিবার। সেই মামলায় ৬৩ বছর বয়সী রাকশান্দা রশিদকে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয় বিচারপতি রাহুল ভারতী। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, “মানবাধিকার হল মানব জীবনের সবচেয়ে পবিত্র উপাদান। এমন কিছু ঘটনা ঘটে যখন একটি সাংবিধানিক আদালতের উচিত একটি মামলার যোগ্যতা এবং অসুবিধা যাই হোক না কেন, এসওএস-এর মতো ভোগান্তি নিয়ে আসা। যা কেবলমাত্র সময়মতো বিচার করা যেতে পারে।” এরপর আদালত সাফ জানায়, রাকশান্দা রশিদের নির্বাসন অযৌক্তিক। কারণ তিনি প্রাসঙ্গিক সময়ে এলটিভি স্ট্যাটাস ধারণ করছিলেন। বৃদ্ধাকে নির্বাসন থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। আদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আদেশ মেনে চলার জন্য দশ দিন সময় বেধে দিয়েছে। ১ জুলাই একটি সম্মতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় নির্ধারণ করেছে।





























