পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মেধাবী সূচনা শেঠের কাণ্ডে যতটা হতবাক গোটা দেশ ততটাই পুলিশকে নাস্তানাবুদ করে চলেছে সে। এখনও পর্যন্ত সন্তানকে সে খুন করিনি বলেই বক্তব্যে অনড় সূচনা। শনিবার সূচনার ইচ্ছে না থাকলেও তাকে নিয়ে গিয়ে গোয়া যে সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টে সে ছেলে নিয়ে উঠেছিল সেখানে এক ঘণ্টা ধরে পূনর্নির্মাণ করে পুলিশ। সূচনার ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি চিরকূট যেখানে সে লিখেছে, ‘স্বামীর কাছে কিছুতেই ছেলেকে যেতে দেব না’। গোয়ার ক্যালাঙ্গুট থানায় গত ১৩ জানুয়ারি সূচনার সঙ্গে ১৫ মিনিট ধরে কথা বলে তার প্রাক্তন স্বামী ভেঙ্কট রমন।

কথা চলাকালীন দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।

দুজনেই একে অপরকে দোষ দিতে ব্যস্ত ছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ভেঙ্কট প্রশ্ন করেন, কি করে তুমি আমার ছেলের সঙ্গে এই কাজ করলে? কিভাবে পারলে তুমি? সূচনার জবাব, আমি খুন করিনি’।

সূচনার দাবি, ঘুম থেকে উঠে ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখেছি। তদন্তকারি পুলিশ অফিসার পরেশ নায়েক জানিয়েছেন, দুজনের বক্তব্য, রেকর্ডিং করা হয়েছে।

ভেঙ্কট রমন জানিয়েছেন, গত ১০ ডিসেম্বর শেষ দেখা হয়েছিল ছেলের সঙ্গে। আদালত আদেশ দিয়েছিল, ছেলের সঙ্গে রবিবার দেখা করতে দিতে। কিন্ত সূচনা পর পর পাঁচটা রবিবার আমার সঙ্গে ছেলেকে দেখা করতে দেয়নি।

ভেঙ্কট রমন মিডিয়ার সঙ্গে  কথা বলতে অস্বীকার করলেও, তার আইনজীবী আজহার মীর বলেছেন যে তিনি শোকে পাথর। আইনজীবী মীর প্রশ্ন তোলেন,  "বাচ্চে কো কেয়া বিচার মিলেগা? হয়তো সমাজ হিসেবে আমরা বলব ন্যায়বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু... জো গয়া ও ওয়াপাস নাহি আসে ওয়ালা... কে জিতলো বা হারলো তাতে কিছু যায় আসে না। শিশুটি চলে গেছে এটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি’।

মীর জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর ধরে বেঙ্গালুরু পারিবারিক আদালতে তাদের ছেলের হেফাজতের লড়াই চলছিল। প্রাথমিকভাবে, আদালত পিতা ও সন্তানের মধ্যে ফোন এবং ভিডিও যোগাযোগের অনুমতি দেয়, পরে নভেম্বরে, আদালত সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাবাকে শিশুটিকে বাড়িতে রাখার অনুমতি দেয়।