বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার চাপে, শক্তির রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার এখন সরাসরি আক্রমণের মুখে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘ–এর মহাসচিব। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল–এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বলেন, ক্রমশ এমন এক বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে যেখানে আইনের শাসনের জায়গা দখল করছে বলপ্রয়োগের শাসন, এবং অনেক ক্ষেত্রে এই প্রবণতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্ষমতাবানরাই। গুতেরেস বলেন, মানবাধিকারের ওপর আঘাত কোনো গোপন প্রক্রিয়া নয়; বরং সবার চোখের সামনে ঘটছে। নির্দিষ্ট দেশের নাম না নিলেও তিনি ইউক্রেন–এ রাশিয়া–র যুদ্ধের সমালোচনা করেন এবং জানান, কয়েক বছরের সহিংসতায় সেখানে ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

তার ভাষায়, “রক্তপাত বন্ধ করার এখনই সময়।” তিনি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড–এর পরিস্থিতিও তুলে ধরে বলেন, সেখানে মানবাধিকার, মানব মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন ঘটছে, যা দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে দুর্বল করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। মহাসচিব আরও সতর্ক করেন যে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, বিশ্বজুড়েই মানবাধিকার ক্ষয়ে যাচ্ছে।
তার মতে, ইচ্ছাকৃতভাবে ও কৌশলগতভাবে মানবাধিকারকে পেছনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, মানবিক দুর্ভোগকে স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে, মানুষকে দরকষাকষির হাতিয়ার বানানো হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে অনেক সময় বিরক্তিকর বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “মানবাধিকার ভেঙে পড়লে, অন্য সবকিছুই ভেঙে পড়ে।” গুতেরেসের মতে, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা মানুষরা, যারা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন। তিনি জরুরি ভিত্তিতে প্রবণতা বদলাতে এবং কোনো আপস ছাড়াই বৈশ্বিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য, জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দলিলগুলো বেছে নেওয়ার মেন্যু নয়—নেতারা নিজেদের সুবিধামতো কিছু অংশ গ্রহণ করে বাকিটা উপেক্ষা করতে পারেন না।