পুবের কলম, ইসলামাবাদ: কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর মহামিছিল ঘিরে কার্যত অবরুদ্ধ রাজধানী ইসলামাবাদ। খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে ইসলামাবাদমুখী সমস্ত মহাসড়ক, বিশেষত পেশোয়ার, ডেরা ইসমাইল খান, হাজারা এবং অ্যাটকের গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে বালি ও পাথর বোঝাই ২ হাজারেরও বেশি কন্টেইনার দিয়ে ব্যারিকেড গড়ার পাশাপাশি পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশ থেকে আসা প্রায় ১৯ হাজার পুলিশ কর্মীর থাকার জন্য বিভিন্ন ßুñল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই মহামিছিল আটকাতে দেশজুড়ে নজিরবিহীন ধরপাকড় শুরু করেছে শাহবাজ শরিফের সরকার। ১৯৬০ সালের জনশৃঙ্খলা আইনে লাহোর থেকে ইমরানের তিন প্রবীণ বোন আলিমা, উজমা এবং নোরিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পিটিআইয়ের দাবি, তাদের অন্তত ৫ জন সাংসদ, একাধিক বিধায়ক এবং দেড় হাজারেরও বেশি কর্মীকে আটক করা হয়েছে। অথচ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামির ডাকা অপর একটি মিছিল খোদ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আপাতত স্থগিত হয়েছে। ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে বন্দি ইমরানের দলের প্রতি এই বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন পিটিআই নেতারা। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী তথা এই মিছিলের নেতা সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, তাঁদের এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ টি-টোয়েন্টির বদলে দীর্ঘমেয়াদি ‘টেস্ট ম্যাচ’ হতে চলেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজধানীর বুকে ১০-২০ দিনের কোনো দীর্ঘ অবস্থান বিক্ষোভ বরদাস্ত করা হবে না।

সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট ও হাঙ্গুতে পরপর জঙ্গি হামলায় পুলিশ ও সেনা মিলিয়ে ২৬ জনেরও বেশি নিহতের ঘটনাকে তুলে ধরে কড়া নিরাপত্তার পক্ষে যুক্তি দিয়েছে সরকার। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও ‘নরম রাষ্ট্রের’ তকমা ঝেড়ে ফেলে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচনী প্রতীক ছাড়াই ৯৩টি আসনে জয়ী হয়েছিল পিটিআই। সেই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে জনগণের মনে থাকা ক্ষোভই বর্তমান জোট সরকারের সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ। এর পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে পেট্রোলের দাম হু হু করে বেড়ে প্রতি লিটারে প্রায় ৩৯৪ রুপিতে পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অর্থনৈতিক অসন্তোষ রয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক আন্দোলন একজোট হয়ে বৃহত্তর রূপ নিলে তা সরকারের অস্তিত্বের সংকটে পরিণত হতে পারে। আর সেই প্রবল উদ্বেগ থেকেই এই আগাম ও কঠোর দমনপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।