পুবের কলম, নিউ ইয়র্ক: নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে না এলে ইরানকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। নরকে পরিণত করা হবে হামলার মাধ্যমে। ট্রাম্প জানান, আগামী নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তিতে না এলে ইরানকে এমন নরকে ঠেলে দেওয়া হবে, যেখান থেকে তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

তবে চরম এই হুমকির পাশাপাশি একটি ইতিবাচক খবরও দিয়েছেন তিনি। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে তিন ঘণ্টাব্যাপী একটি সফল ও গঠনমূলক বৈঠক হয়েছে বলে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন।

অধিবেশনে ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানেরও জোর ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, খুব শিগগিরই এই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হতে চলেছে। এছাড়া কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের দ্রুত পতন ঘটবে বলে তিনি দাবি করেন।

পাশাপাশি ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তির ঘোষণা দেন। এই চুক্তির আওতায় আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র দুটি বড় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করবে।

বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর কঠোর সমালোচনা করতেও ছাড়েননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) তিনি একটি লাগামহীন প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়েছেন। অন্যান্য সদস্য দেশগুলোকেও দ্রুত এই সংস্থা ত্যাগের আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে প্রযুক্তির দুনিয়ায় চমক হিসেবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সব সরকারি নথিতে এআই-এর বদলে এসআই শধটিই ব্যবহার করা হবে।
এর আগে অধিবেশনে সূচনা বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘের বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ, জলবায়ু দূষণ ও এআই নিয়ে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেন। তবে ট্রাম্প তাঁর গোটা বক্তব্যে নিজের নেতৃত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক শক্তির প্রশংসা করে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণেরই চেষ্টা করেছেন।