ইরান যুদ্ধের ৩৫তম দিনে আকাশযুদ্ধে বড়সড় সাফল্যের দাবি করেছে তেহরান। শুক্রবার  একাধিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক উড়োজাহাজে আঘাত হানার দাবি তুলে দিনটিকে ‘কালো দিন’ বলে অভিহিত করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম।

ইরানের সামরিক বাহিনীর অধীন আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান, পাঁচটি ড্রোন ও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি সামরিক হেলিকপ্টারেও আঘাত হানার দাবি করা হয়েছে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, খোমেইন ও জানজান প্রদেশের আকাশে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে এবং ইসফাহানের আকাশে ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এছাড়া বুশেহর অঞ্চলে একটি ‘হার্মিস’ ড্রোন নামানো হয়েছে বলেও দাবি তেহরানের।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অধীন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রথমে এই ক্ষয়ক্ষতির কথা অস্বীকার করলেও পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কিছু ঘটনার আংশিক সত্যতা উঠে আসে। জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে একটি ‘এফ-১৫ই’ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছে।

ওই বিমানের এক পাইলটকে উদ্ধার করা হলেও সহ-পাইলট এখনও নিখোঁজ।

একই দিনে  পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় একটি ‘এ-১০ ওয়ার্টহগ’ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। সেই ঘটনায়ও এক ক্রু সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ সেনাদের উদ্ধারে পাঠানো ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টারগুলির উপরও হামলার দাবি করেছে ইরান।

যদিও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, তাঁকে নিয়মিত পরিস্থিতির আপডেট দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও ইরান অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং ২’ স্টিলথ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার দাবি করেছিল। তাদের বক্তব্য, নতুন প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফলে ইরানের আকাশসীমা শত্রুপক্ষের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

তবে এই সমস্ত দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি। ফলে পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।