লেবানন-ইজরায়েল সংঘর্ষবিরতির আবহে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ইরান। শুক্রবার বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছে তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, লেবাননে সংঘর্ষবিরতির প্রেক্ষাপটে আপাতত সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা হবে।
আরও পড়ুন:
এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে তিনি ইরানকে ধন্যবাদ জানান। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হলেও ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। তাঁর বক্তব্য, ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।আরও পড়ুন:
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী নয়, বরং ইরানের বন্দর ও উপকূল ঘিরে অবরোধ জারি রেখেছে আমেরিকা।
এই অভিযানে ১২টি যুদ্ধজাহাজ, ১০০-র বেশি যুদ্ধবিমান এবং প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিঙ্কন।আরও পড়ুন:
এরই মধ্যে ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইজরায়েল ও লেবানন। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি ইরান-আমেরিকার সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পথ আরও সুগম করতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, লেবাননে ইরানের মিত্র সংগঠন হিজবুল্লা-র ওপর ইজরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিই ছিল তেহরানের অন্যতম প্রধান শর্ত।আরও পড়ুন:
যদিও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, সংঘর্ষবিরতি হলেও লেবানন থেকে সেনা সরানো হবে না। অন্যদিকে হিজবুল্লা চেয়েছে, লেবাননের পক্ষ থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দিক ইরানই।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় হয়েছে পাকিস্তান। পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইতিমধ্যেই ইরানের সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জানা যাচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালী এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ—এই তিনটি ইস্যুতে সমঝোতার পথ খুঁজছে মধ্যস্থতাকারীরা।