পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃপৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর বোধহয় গরম ভাতের গন্ধ। তাই কাশ্মীরে যখন পর্যটকরা যান নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতে ওঁদের চোখে তখন বাড়ির লোকের মুখে দুমুঠো গরম ভাত তুলে দেওয়ার আকুতি। এই আকুতি তাদের নিয়ে যায় ভূস্বর্গে। কফিনবন্দী নিথর দেহ ফিরছে জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ির নিহত চার যুবকের। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কের একটি নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গের ধ্বংসাবশেষ থেকে আরও তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।রামবান টানেল ধসে পড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার। জম্মুর প্রশাসনিক কর্তারা শনিবার এই কথা জানিয়েছেন।
এখনও নিখোঁজ বেশ কয়েকজন। তাঁদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।নিখোঁজরা হল পরিমল রায়, দীপক রায় এবং সুধীর রায়, সকলেই ব্লকের চরচরবাড়ির বাসিন্দা এবং যাদব রায় এবং গৌতম রায় যারা একই ব্লকের পশ্চিম মল্লিকপাড়ার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাতে রামবান টানেলে ধস নামে। তাতে আটকে পড়েন ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক। যার মধ্যে ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ির ওই পাঁচ যুবকও।আরও পড়ুন:
প্রতি বছর ধূপগুড়ির গধেয়ার কুঠি এবং মাগুর মারি গ্রাম থেকে ৫০ জনের বেশি যুবক কাশ্মীর যান না বেড়াতে নয় কাজের উদ্দেশ্যে।একটা সময় ছিল যখন বিহার, ওড়িশা থেকে এই রাজ্যে কাজের জন্য আসতেন অনেকেই।
কল মিস্ত্রী, রিক্সাচালক, রান্নার ঠাকুর , জল বওয়ার ভারী হিসেবে তারা কাজ করতেন।আরও পড়ুন:
তবে সময় পরিস্থিতি পাল্টেছে। এখন এই রাজ্য থেকে অনেকেই যাচ্ছেন ভিনরাজ্যে কাজের উদ্দেশ্যে। সেইসব পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা আমাদের দেখিয়েছে করোনা অতিমারী।
আরও পড়ুন:
ধূপগুড়ির বাসিন্দাদেত আয়ের মূল উৎস আলু চাষ। তবে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাস জমিতে কাজ থাকে। তারপর বাকি আটমাস কাজের জন্য যেতে হয়া রাজ্যের বাইরে। প্রতিবছরেই এই যুবকেরা যান জম্মু-কাশ্মীরে বাকি আটমাসের অর্থ উপার্জনের আশায়।
আরও পড়ুন:
গত ৩ মে ধূপগুড়ির গধেয়ার কুঠি, মাগুর মারি গ্রাম থেকে ১৫ জন যুবক শ্রমিকের কাজ করতে কাশ্মীর পাড়ি দেন। বাংলার শ্রমিকরা ওই দলের সদস্য।রামবান টানেলে কাজ করছিলেন তারা। আপাতত যারা নিখোজ তাদের জন্য উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছেন পরিবারের সদ্যস্যরা।তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ নিহত ও নিখোজ শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন।
আরও পড়ুন:
মহুয়ার অভিযোগ, বাংলার এই যুবকদের এই পরিনতির জন্য কেন্দ্র সরকার অনেকাংশেই দায়ী। কারণ, কেন্দ্র ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রেখেছে। গত তিন মাস ধরে কাজ করেও মজুরি পাচ্ছেন না মাগুর মারি, গধেয়ার কুঠি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বহু শ্রমিক। মহুয়া আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন গ্রামের মানুষ গ্রামেই কাজ করুক। কিন্তু কেন্দ্র পদে পদে বাধা দিচ্ছে।”জীবন দিয়ে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার মাসুল দিলেন জলপাইগুড়ি ধু পগুড়ির এই যুবকরা