মুসরত আরা পারভিন, চাঁচলঃ পরপর দুই দিনে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে গৃহহীন মানুষ। শুক্রবার মাঝরাতে কালবৈশাখীর ধবংসলীলায় লন্ডভন্ড হয়ে গেল মালদা জেলার প্রায় আটটি ব্লকের প্রায় পাঁচ হাজার কাঁচা বাড়ি। এর মধ্যে কিছু বাড়ি আংশিক ও কিছু বাড়ি পুরোপুরিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার মাঝরাতে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলা কালবৈশাখীর দাপট তৎসহ বজ্রবিদ্যুৎ ও শিলাবৃষ্টির প্রভাবে উত্তর মালদায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঠিক তার আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ও প্রবল বর্ষণের ফলে ধান ও পাট গাছের ক্ষতির পাশাপাশি আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিন্তু, শুক্রবার মাঝরাতে প্রবল দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি শুরু হলে প্রমাদ গুনতে থাকেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে যারা কাঁচা বাড়িতে বসবাস করেন তারা প্রায় বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার বাড়ি ঢোকার পথে রাস্তায় গাছের ডাল পড়ে মনা হালদার নামে এক বৃদ্ধা পুরাতন মালদার সাহাপুরে মারা যাওয়ার পরে শুক্রবার মাঝরাতে বাড়িতে গাছ ভেঙে পড়ে নয় বছরের এক বালকের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
আরও পড়ুন:

বামনগোলা ব্লকের মহেশপুর এলাকায় রাতেই মৃত্যু হয় ওই বালকের। বাড়িতে গাছপালা ভেঙে পুরো বাড়িটাই ধ্বংস হয়ে যায় ওই হতভাগ্য পরিবারের। বাড়ির ছাদের টিন ও টালি উড়ে গিয়ে সারা জেলায় প্রায় পঁচিশ জন ব্যক্তির জখম হওয়ার খবর মিলেছে। রতুয়া-২ ব্লকের শ্রীপুর-১ পঞ্চায়েত এলাকায় ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে আবদুল কাশেম নামে এক ব্যক্তির পুরো বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায় বলে খবর মিলেছে।
আরও পড়ুন:
সারা রাত খোলা আকাশের নিচে চৌকির তলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন পুরো পরিবার।
আরও পড়ুন:
শনিবার সকালে গিয়ে দেখা গেল লন্ডভন্ড অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে জিনিসপত্র।
সেখানে যে মানুষ বসবাস করত তা কল্পনা করা দূরুহ ব্যাপার হয়ে পড়েছে।আরও পড়ুন:
এদিকে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়ে বিদ্যুৎবাহী তার ছিঁড়ে গত দুদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ থাকায় বাসিন্দারা পানীয় জলের অভাবে ভুগছেন। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতেও দেখা দিয়েছে জলের সংকট। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে এই বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রতিটি ব্লকের বিডিওকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
তবে, কালবৈশাখীর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের ঘরের চাল উড়ে গেলেও প্রশাসনের তরফে ত্রিপল টুকুও জুটছে না। শ্রীপুরের আবদুল কাশেম জানিয়েছেন, তার পাঁচটি ঘর উড়ে গেলেও তাকে এখনও পর্যন্ত পঞ্চায়েত বা প্রশাসনের তরফে কোন সাহায্য করা হয়নি।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, শিলা বৃষ্টির ফলে পাট গাছের উপরের অংশ ভেঙে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি বোরো ধানের জমিতে কেটে রাখা ধান জলের তলায় হাবুডুবু খাচ্ছে এবং মাথায় হাত দিয়ে চাষিরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কি করে সেই ভেজা ধান ঘরে তুলবেন। হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি সাহায্যের উপর। কারণ, আগামীতে ফের কালবৈশাখীর দাপট দেখা দেবে এবং তার কিছুদিন পরেই ভারী বর্ষণ শুরু হবে বর্ষাকালে। ফলে মাথা গোঁজার জন্য আপাতত অস্থায়ী ব্যবস্থা করা ছাড়া উপায় নেই বাসিন্দাদের।
আরও পড়ুন:
যদিও মালদার জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের স্থানীয় পঞ্চায়েত বা ব্লক প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত প্রমাণ সহ আবেদন করতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি হলেই তাদের সাহায্যের ব্যবস্থা করা হবে।
আরও পড়ুন:
তিনি আরও জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রিপল সহ অন্যান্য ত্রাণ পেতে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। প্রত্যেকটা ব্লকেই পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে।
আরও পড়ুন: