পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: প্রয়াত সুপ্রিম কোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী ফালি এস নরিমান। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। বিশিষ্ট এই আইনজীবীর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার সকালে দিল্লিতে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিশিষ্ট আইনজীবীর মৃত্যুকে এক যুগের পরিসমাপ্তি বলে আখ্যা দিয়েছেন অভিষেক মনু সিংভি। দেশের বর্তমান সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেছেন, 'জাতি বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার বিশাল ব্যক্তিত্বকে হারালো দেশ'। শোকপ্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কপিল সিব্বল, ইন্দিরা জয়সিং প্রশান্ত ভূষণ, প্রবীণ আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, 'শ্রী ফালি নরিমানজীর অসাধারণ আইনি ক্ষমতা ছিল। বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। সাধারণ নাগরিকদের কাছে ন্যায়বিচারের সহজলভ্য করার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীর শোকাগত। ওঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল'। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছেন এস নরিমান। বর্তমান সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাগুলিতে উদ্বেগে কাটিয়েছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগে কলেজিয়াম পদ্ধতির অন্যতম স্রষ্টা হিসেবে মনে করা হয় তাঁকে। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায়, নরিমানের অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে। ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলায় ইউনিয়ন কার্বাইডের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছিলেন তিনি। কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা মামলায় সাম্প্রতিক রায় নিয়ে কেন্দ্রের মোদি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন নরিমান। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বম্বে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। শুধু আইনজীবী নন, একজন সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি ছিল প্রয়াত আইনজীবীর। ১৯৭২ সালের মে থেকে ১৯৭৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেলের দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি।
১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির জরুরি অবস্থার ঘোষণার সিদ্ধান্তে সলিসিটার জেনারেলের পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডি মামলার তীব্র ক্ষোভ ঝড়ে পড়েছিল আত্মজীবনী 'হোয়েন মেমরি ফেডস'-এ। মায়ানমারের এক পার্সি পরিবারে ১৯২৯ সালের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেন নরিমান। ১৯৫০ সালে বোম্বে হাইকোর্টে আইনের অনুশীলন শুরু করেন। ১৯৯১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯৯-২০০৫ জন্য ছিলেন রাজ্যসভার সদস্য। নরিমান জাতীয় বিচারবিভাগীয় নিয়োগ কমিশনের বিখ্যাত মামলা সহ বেশ কয়েকটি যুগান্তকারি মামলায় যুক্তি দিয়েছিলেন। যা সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা বাতিল করা হয়েছিল।