পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: গত কয়েক বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল মিলল আজ। চন্দ্রযান ৩ নির্দিষ্টসময় চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করল। বুধবার সকাল থেকে ইসরো সহ গোটা দেশবাসী চোখ ছিল সেই দিকেই। এই মিশনের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান ৩ এর সফট ল্যান্ডিং। কারণ চাঁদের মাটি এবড়ো খেবড়ো হওয়ার জন্য রাশিয়ার লুনর ২৫ অসফল হওয়ার পর থেকে সামান্য হলেও দুশ্চিন্তায় ছিলেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে একবার বলাও হয়েছিল পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে চন্দ্রযানের অবতরণ। সেক্ষেত্রে বলা হয়েছিল ২৭ আগস্ট এই অভিযানের সফট ল্যান্ডিং সফল হবে। কিন্তু বুধবার দেশবাসীর মুখে হাসি ফুটিয়ে বিজ্ঞানীরা জানান দেন আজই সেই ঐতিহাসিক দিন।
আমারিকা চিন ও রাশিয়ার পরে ভারত-ই হতে চলেছে চতুর্থ দেশ। আজ সন্ধ্যা ৬.০৪ মিনিটে সফট ল্যান্ডিং করল চন্দ্রযান ৩। এই মিশন সফল করার জন্য প্রায় ৪ বছরের বেশি সময় ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রধানমন্ত্রী ইসরোর সব বিজ্ঞানীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একাধিক মানুষের মেধা, পরিশ্রম মেশানো রয়েছে চন্দ্রযান ৩ মিশনে। কিন্তু, যাঁরা এই মিশনের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তাঁদের চেনে নিন...............
ISRO প্রধান (এস সোমনাথ)
এই মিশনের পিছনে যার কথা না বললেই নয় তিনি হলেন ইসরো প্রধান এস সোমনাথ। চন্দ্রযান ৩ এর এই মিশনকে নিয়ে প্রথম থেকেই উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনি। উৎক্ষেপণের দিন মন্দিরে পুজোও দিতে গিয়েছিলেন তিনি।
তাঁর নেতৃত্বেই এই মিশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চন্দ্রযান ৩ উৎক্ষেপণের আগে তা যাতে একেবারে ঠিকঠাক থাকে সেই যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখার দায়িত্ব ছিল এস সোমনাথের উপর। বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা এস সোমনাথ যে শুধু একজন দক্ষ বিজ্ঞানী তাই নন, তিনি একটি সংস্কৃত ছবি 'ইয়ানাম'-এও অভিনয় করেছেন।
উন্নিকৃষ্ণন নাইয়ার (বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার-এর ডিরেক্টর)
তিনি রকেট সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান। তিনি একজন দক্ষ অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারও।
ভিরামুথুভেল পি (চন্দ্রযান ৩-এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর)
তামিলনাড়ুর ভিল্লুপুরম জেলার বাসিন্দা, ভিরামুথুভেল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন। । পরে তিনি আইআইটি-মাদ্রাজ থেকে পিএইচডি করেন।
তিনি ২০১৪ সালে ISRO-তে যোগ দেন। গত চার বছর ধরে এই প্রকল্পকে নিজের সবটুকু দিয়েছেন ভিরামুথুভেল পি।
কল্পনা কে (চন্দ্রযান ৩-এর ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর)
করোনা আবহেও এই মিশন সাফলে কাজ করে গিয়েছেন কল্পনা কে। ভারতের মহাকাশ গবেষণায় নিজের জীবন সমর্পণ করেছেন তিনি।
এম ভনিথা (ইউআর রাও স্যাটেলাইট সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর)
চন্দ্রযান ২ মিশনের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ছিলেন এম ভনিথা। তিনি দেশের প্রথম মহিলা গবেষক যিনি চন্দ্র মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর চন্দ্রযান ২ মিশন নিয়ে জ্ঞান চন্দ্রযান ৩ মিশনকেও অনেকাংশে সাহায্য করেছে।
এম শংকরণ ( উই আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টারের ডিরেক্টর)
অফুরান অভিজ্ঞতার কারণে এম শংকরণকে 'ISRO-র পাওয়ার হাউস' বলা হয়। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ করছেন।
শেষ আপডেট:
২৩ আগস্ট ২০২৩, ১৪:৫৭