উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়নগর : এখনো স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় জয়নগরের মোয়া। সেই মোয়ার মরশুম চলছে। এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে উঠেছে মোয়া ব্যবসায়ীদের। তবে মোয়া হাব তৈরিতে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষুব্ধ তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক প্রশাসনিক বৈঠকে এই জয়নগরেই মোয়া হাব তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন। তারপর মোয়া হাবের জন্য বারংবার জায়গা বদল হয়েছে। শেষে জয়নগর- মজিলপুর পুরসভা জায়গা চিহ্নিত করে, রাজ্যের খাদি বোর্ডকে সেকথা জানায়। এরপর খাদি বোর্ড থেকে জায়গা পরিদর্শনও করা হয়। কিন্তু হাব নির্মাণের কাজ এখনও হয়নি। ফলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে জয়নগর ও বহডুর মোয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
আরও পড়ুন:

হাব নির্মাণের কাজ ঝুলে থাকায় ক্ষুব্ধ জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুকুমার হালদারও। তিনি খাদি বোর্ডের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। এ ব্যাপারে জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুকুমার হালদার বলেন, খাদি বোর্ডের নির্দেশ মতোই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ড্রয়িং, সয়েল টেস্টের রিপোর্ট- সবই ৫-৬ মাস আগে পাঠানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
এরপর বলা হয়েছিল, কন্ট্রাকটররা যাবেন। জমির চারদিকে পাঁচিল দেওয়ার কাজ শুরু হবে। সেই মতো মাটি খোলার কাজ ও করা হয়। কিন্তু তারপরে আর কোনও কাজই হয়নি। যদিও এই ব্যাপারে খাদি বোর্ডের এক আধিকারিক এন চন্দ্র হালদার বলেন, পুরসভা পাঠিয়ে দিলেই কি কাজ শুরু করা যায়? তার জন্য টেন্ডার ও অর্থ বরাদ্দ করা দরকার। কিন্তু কবে সেসব প্রক্রিয়া হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দেননি ওই আধিকারিক।
এই মোয়া হাব তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল প্রায় দু'তিন বছর আগে। কিন্তু বারংবার জায়গা বদল হওয়ার ধাক্কায় এক প্রকার থমকে গিয়েছিল সেই প্রক্রিয়া। প্রথমে জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল ও জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার কংগ্রেসের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুজিত সরখেলের উদ্যোগে জয়নগরের মিত্রগঞ্জ হাটে জায়গা দেখা হয়েছিল। কিন্তু সেই জায়গা দেখে খাদি বোর্ড আপত্তি জানায়। ফলে তখন কাজ পিছিয়ে যায়। এরপর পুরসভায় পালাবদল হয়। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। শাসকদলের চেয়ারম্যান সুকুমার হালদার মোয়া হাবের জন্য ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পুরসভার জায়গা চিহ্নিত করেন। সেই জায়গা পরিদর্শনও করেছিলেন খাদি বোর্ডের কর্তারা। কিন্তু তারপরেও কাজ থমকে।আরও পড়ুন:
বহডুর মোয়া ব্যবসায়ী রাজেশ দাস বলেন, আর কবে ঘর তৈরি হবে?কবে প্যাকেজিং মেশিন আসবে? অন্ধকারে আমরা। মুখ্যমন্ত্রী বারবার মোয়া হাবের ব্যাপারে জোর দিলেও কাজে গাফিলতি ঘটছে। উন্নত প্যাকেজিং মেশিনের অভাবে এই শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই কথা ব্যবসায়ী গণেশ দাসের মুখেও। তিনি বলেন, মোয়া রফতানির কাজে ব্যবসায়ীদের অসুবিধা হচ্ছে। হাব হলে ব্যবসায়ীরা অনেক উপকৃত হবেন।তবে আগামী ৪ ঠা জানুয়ারি মোয়ার শহর বহড়ুতে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার হাত ধরে জয়নগর মোয়ার হাবের ভবিষ্যৎ ত্বরান্বিত হবার আশায় মোয়া শিল্পের সঙ্গে মানুষ জন।