আহমদ আবদুল্লাহ: লোকসভা নির্বাচন ২০২৪-এ ফের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গুজরাতের ১২ বছরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পুরনো মূর্তিতে পাওয়া গেল। দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ‘বিশ্বগুরু’ মোদি হেট স্পিচ কাকে বলে তার নজির দুনিয়ার সামনে তুলে ধরলেন। এতে হয়তো ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার মাথা লজ্জায় হেঁট হয়ে গেল। কিন্তু মোদিজি এবং তাঁর সাগরেদদের তাতে বি¨ুমাত্র পরোয়া নেই। যেকোনোভাবে হোক তাদের ৪০০ পার হতে হবে। আর এখন তো প্রশ্ন উঠে গেছে, সত্যি কী তাঁরা আবারও মেজোরিটি পাবেন? নইলে ‘বিশ্বগুরু’কে কেন এমন নিচে নেমে কংগ্রেসকে আক্রমণ করার ছলে দেশের মুসলিমদের শুধু আক্রমণ নয়, তাদের অপমান ও ঘৃণিত করার চেষ্টা করলেন আদরণীয় প্রধানমন্ত্রী মোদিজি। যিনি মাঝখানে ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ’ বলে একটি ‘ভুয়ো শ্লোগান’ দিয়ে বিশ্বের মনজয় করার চেষ্টা করেছিলেন। অথচ ২০০৬ সালে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছিলেন, দুর্বল শ্রেণির ক্ষমতায়নের কথা। তার মধ্যে মুসলিমদেরও কথা তিনি বলেছিলেন। সাচার কমিটির রিপোর্ট দেখিয়ে দিয়েছিল যে, সারাদেশে মুসলিমরাই সবথেকে পিছিয়ে।
আরও পড়ুন:
এসব কথা কেন উঠছে? কারণ, রবিবার ২০ এপ্রিল, ২০২৪ রাজস্থানের বাসওয়ারাতে নির্বাচন জনসভায় মোদি যা বলেছেন তার বাংলা অনুবাদ হচ্ছে, ‘কংগ্রেসের নির্বাচনী ইশতেহারে নাকি রয়েছে কংগ্রেস দল ক্ষমতায় এলে মহিলাদের সোনা হিসেব করে তা বণ্টন করে দিতে চায়।
’ মোদি বলেন, আমাদের আদিবাসী পরিবারের মধ্যে চাঁদি বা রুপো থাকে। সেগুলিরও হিসেব নেওয়া হবে। আর যে বোনেদের সোনা আছে, যেসব সম্পত্তি রয়েছে এগুলির সবই সমানরূপে বিতরণ করে দেওয়া হবে। এই প্রচেষ্টা কী আপনাদের মঞ্জুরি রয়েছে? আপনারা কি এই ধরনের কাজকে অনুমোদন দেবেন? আপনাদের সম্পত্তি কী সরকারের নিয়ে নেওয়ার অধিকার আছে? আপনাদের মেহনতের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তি কি সরকারের নিয়ে নেওয়ার অধিকার আছে? এরপরই মোদি বলেন, আগে যখন ওদের (কংগ্রেস) সরকার ছিল, তারা বলেছিল দেশের সম্পত্তিতে প্রথম অধিকার হচ্ছে মুসলিমদের। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, এই সমস্ত সম্পত্তি একত্রিত করে কাকে দেওয়া হবে? এরপর মোদি গলার স্বর উঁচু-নিচু করে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলেন, যাদের বেশি বাচ্চা আছে তাদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। ঘুসপেটিয়া (অনুপ্রবেশকারীদের) হাতে তুলে দেওয়া হবে। আপনাদের মেহনতের পয়সা ঘুসপেটিয়াদের দেওয়া হবে! এতে কী আপনারা রাজি আছেন?মোদি আরও বলেন, কংগ্রেসের ইশতেহার বলছে যে, মা-বোনেদের সোনার হিসেব নেওয়া হবে। তার জানকারি নেওয়া হবে। আর সেগুলি বণ্টন করা হবে। তাদের দেওয়া হবে যাদের সম্পর্কে মনমোহন সিং সরকার বলেছিল, এইসব সম্পত্তিতে প্রথম অধিকার মুসলিমদের হবে। ভাইয়ো-বেহনো ইয়ে আরবান নকশালকা শোচ হ্যায়। মেরি মা-বেহনো এরা আপনার মঙ্গলসূত্রও ছেড়ে দেবে না। ওরা ওই পর্যন্ত যাবে।
আরও পড়ুন:
কংগ্রেসের মিডিয়া সেলের মুখপাত্র বলেছেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী আজকে আবার মিথ্যে কথা বললেন। একটি নির্বাচন জেতার জন্য আপনি জনতার কাছে মিথ্যার পর মিথ্যা বলে যাচ্ছেন। আপনার গ্যারান্টি মিথ্যা, আপনার জুমলি মিথ্যা, আপনার প্রতিশ্রুতিও মিথ্যা। তিনি বলেন, আপনি দেশের হিন্দু-মুসলিমকে মিথ্যা দিয়ে ভাগ করে দিয়েছেন। আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি, কংগ্রেস ইশতেহারের কোথাও যদি মুসলিম বা হিন্দু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তা আমাদের বলুন। আর নইলে চ্যালেঞ্জ স্বীকার করে মিথ্যা বলা বন্ধ করে দিন।
কংগ্রেস ইশতেহারে ন্যায় ও ইনসাফের কথা বলা হয়েছে।আরও পড়ুন:
বলা হয়েছে, ইনসাফ হবে তরুণদের সঙ্গে, নারীদের সঙ্গে, আদিবাসীদের সঙ্গে, শ্রমিকদের সঙ্গে। এসবে আপনি কেন আপত্তি জানাচ্ছেন না? আপনি তো বিগত ১০ বছর হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করে পার করলেন। এখন ফের নির্বাচনেও হিন্দু-মুসলিম নিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার লজ্জা হওয়া উচিত।’
আরও পড়ুন:
নরেন্দ্র মোদির এই ঘৃণা ভাষণকে সমস্ত মহল থেকেই ছি-ছি করা হচ্ছে। তবে ব্যতিক্রম ভারতের নির্বাচন কমিশন। তারা প্রধানমন্ত্রীর সংবিধান বিরোধী এবং নির্বাচনী ন্যায় সংহিতা বিরোধী (কোড অফ কনডাক্ট) বক্তব্য নিয়ে কোনও মন্তব্য তো করেনি, বরং অভিযোগ গ্রহণ করতেও অস্বীকার করেছে। এ ছাড়া বোধহয় তাদের উপায় ছিল না। তাদের নিজের পিঠ এবং পদ তো বাঁচাতে হবে। আর প্রবাদ রয়েছে, ‘আপনি বাঁচিলে বাপের নাম’।
আরও পড়ুন:
তবে মোদির বাপের অবশ্য স্বয়ং বেশি বাচ্চা ছিল। রেকর্ড বলছে, মোদি-সহ তাঁর পিতাজির ছয় ছয়টি সন্তান ছিল।