পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ রবিবার হায়দরাবাদে জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে চব্বিশের মূলমন্ত্র বেঁধে দিলেন মোদি। তিনি বলেন, হিন্দু ছাড়াও অন্য ধর্মের নির্যাতিত, শোষিতদের কাছে পৌঁছতে হবে দলীয় পদাধিকারীদের। সেই সঙ্গে দেশ থেকে পরিবারতন্ত্র, জাতপাত এবং তোষণের রাজনীতিকে সমূলে উৎখাত করতে হবে।

বিদ্বেষে দল চলে। দেশ চলে না। বুঝছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সাম্প্রতিককালে প্রবাসে ভারতের ভাবমূর্তি যেভাবে নষ্ট হয়েছে তাতে সিঁদুরের মেঘ দেখছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ কেউ। তারা বুঝছে ৭০ শতাংশকে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাজনীতির সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। চলতে হবে সবাইকে নিয়ে।

২০২৪-এ লোকসভা ভোট। শুধু হিন্দু ও হিন্দুত্বের ভরে বিজয়রথ ছুটবে না। বুঝছেন মোদিও। তাই এবার পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের কাছেও পৌঁছনোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মুসলিমদের মধ্যে পিছিয়ে পড়াদের পাশে থাকার কথা বলেছেন মোদি। যদিও মুসলিদের অধিকাংশই যে পিছিয়ে পড়া তা আগেই স্পষ্ট হয়েছে। দেশজুড়ে মুসলিমদের দুর্দশার কথা সাচার কমিটির রিপোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছিল। তাদের অবস্থা যে তফসিলিদের থেকেও করুণ যে ছবিও ফুটে উঠেছিল।

কিন্তু তাতে কারো হেলদোল লক্ষ করা যায়নি।

আজ হঠাৎ নরন্দ্রে মোদির মুখে পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের কথা শুনে কেউ কেউ আস্বস্থ বোধ করেছেন। তাদের ধারণা মোদি পাশে থাকলে বুলডোজারও ভয় পাবে । বেঁচে যাবে মাথার ছাদ । মোদি বলেছেন, অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যেই দুস্থ- শোষিত মানুষ রয়েছেন। আমাদের শুধু হিন্দুদের মধ্যেই আটকে থাকলে চলবে না। আমাদের এঁদের জন্যেও কাজ করতে হবে।’ প্রসঙ্গত, আজমগড় এবং রামপুরের মতো মুসলিম অধ্যুষিত লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে জয় বিজেপির রণকৌশলে পরিবর্তন এনেছে। হিন্দুরাই যে শুধু ভোট দিচ্ছে তা নয়, মুসলিমরাও এখন ভেদাভেদ ভুলে কাছে আসছে, তা বুঝতে পেরেছে গেরুয়া শিবির।

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানিয়েছেন, অতীতেও বিজেপি অন্য ধর্মের মানুষের কাছে পৌঁছতে চেষ্টা করেছে।

আর বর্তমানে তার ফল পেয়েছে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনেও। গত মে মাসে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় ফেরার পর পাসমান্দা অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের দানিশ আজাদকে যোগী মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়াই এর বড় প্রমাণ। মোদি পাসমান্দা মুসলিমদের কথা বলে আসলে ওই দুই এলাকার দলীয় নেতৃত্বকে বার্তা দিতে চেয়েছেন।

দ্রৌপদী মুর্মুর মতো আদিবাসী নেত্রীকে দেশের রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তুলে ধরে, দেশের আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে সদর্থক বার্তা পৌঁছে দিতে পেরেছে বিজেপি। পাশাপাশি হিন্দু ছাড়াও অন্য সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাবে দুর্বল জনসংখ্যাকেও পাশে পেতে ঝাঁপাবে বিজেপি, রবিবার মোদীর বক্তব্যে তা-ও স্পষ্ট হল, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। গত বছরও মোদি বিজেপির সাধারণ সম্পাদকদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, তাঁরা যেন হিন্দু ছাড়াও অন্যান্য সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষেরও মন জয় করার দিকে নজর দেন। যদিও তাতে খুব একটা সফল হয়নি গেরুয়া শিবির।

উল্লেখ্য, তিনি এই সভা থেকে আরও বলেন, 'তেলেঙ্গনায় ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়ব'। রবিবার হায়দরাবাদে তেলেঙ্গনা বাসীদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, যে খানেই ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়েছে, সেখানেই দ্রুত গতিতে উন্নয়ন হয়েছে।তিনি আরও বলেন, তেলেঙ্গনাতেও মানুষ বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার চাইছে। যেখানেই বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার, সেখানেই সাফল্য। শোষিত-বঞ্চিত মানুষদের সহায়তা করেছে বিজেপি সরকার।