পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: চলতি বছরে তুরস্ক ও সিরিয়ার ভূমিকম্প প্রাণ কেড়েছিল ৫০ হাজার মানুষের। তার কয়েকমাস যেতে না যেতেই শুক্রবার গভীর রাতের ভূমিকম্প প্রাণ কেড়ে নিল প্রায় দু হাজারের বেশি মানুষের। এখনও বহু মানুষ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে প্রায় ১৪ হাজারের বেশি।
আরও পড়ুন:
ধবংসস্তূপের তলায় এখনও বহু মানুষের আটকে থাকার সম্ভাবনা। জোর কদমে চলছে উদ্ধারকাজ। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা।
এর আগে এত প্রবল ভূমিকম্প হয়নি উত্তর আফ্রিকার এই দেশে। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক বিল ম্যাকগুইর জানিয়েছেন, মরক্কোয় ভূমিকম্প খুব একটা হয় না। তাই সেভাবে আগাম প্রস্তুতি ছিল না। বাড়িগুলি মজবুত নয়। মরক্কোর রাজা চতুর্থ মহম্মদ সশস্ত্র বাহিনীকে উদ্ধার কাজে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।আরও পড়ুন:
মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, সে দেশের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১১ মিনিটে ভূমিকম্প হয়। ১৯ মিনিট পর হয় আর একটি আফটারশক।
সেই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৯। রিখটার স্কেলে ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৮। আমেরিকার ভূতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র পর্যটন শহর মারাক্কেশ থেকে ৭১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে হাই অ্যাটলাস পর্বতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮.৫ কিলোমিটার গভীরে রয়েছে সেই কেন্দ্র। ভূমিকম্পের কেন্দ্র প্রত্যন্ত হাই অ্যাটলাস পর্বতে হলেও তার প্রভাব পড়েছে বহু দূর পর্যন্ত। ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত মারাক্কেশ শহর। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে রাজধানী রাবাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। কাসাব্লাঙ্কা, ইসাউইরা শহরেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।আরও পড়ুন:
শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এক জনপদের রূপ নিয়েছে মারাকেশ ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। বড় বড় ভবন ধসে পড়েছে। বিধ্বস্ত ভবন থেকে বের করা হচ্ছে মরদেহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজের জন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সাধ্যমতো চেষ্টা চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ভূমিকম্পে আহত ব্যক্তিদের রক্ত দেওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদানের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। এদিকে ভূমিকম্পের ফলে মারাকেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রাণঘাতী এ ভূমিকম্পের ঘটনায় মরক্কোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতারা। সমবেদনা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাও।