নববর্ষের সকালে এক ভিডিও বার্তায় রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘অত্যাচার’ ও ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে তিনি ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব নির্বাচন—সেই উৎসবে অংশ নিয়েই মানুষকে নিজেদের মত প্রকাশ করতে হবে।

বার্তার শুরুতেই বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রীতি ও সংহতির বার্তা দেন। তিনি বলেন, বাংলা বরাবরই শান্তি, সহাবস্থান ও সংস্কৃতির পীঠস্থান।

নতুন বছরে সকলকে সেই ঐতিহ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এরপরই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বাংলার উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ‘দিল্লির শাসকরা’ রাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই প্রেক্ষিতেই ভোটের মাধ্যমে ‘বদলা নেওয়ার’ ডাক দেন মমতা।
তাঁর বক্তব্য, মানুষের ভোটই সবচেয়ে বড় শক্তি—সেটিকেই কাজে লাগাতে হবে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক বৈধ নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই সমস্যা সমাধানে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলেও জানান।

সবশেষে তাঁর বার্তা—হিংসা বা বিভাজন নয়, শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগই হোক মূল লক্ষ্য। রাজ্যের সব আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের রায়ই ঠিক করবে ভবিষ্যতের পথ।