পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: পেঁয়াজের সরবরাহ এবং দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।  দেশের চাহিদা মেটাতে গত শনিবার পেঁয়াজ রফতানির উপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন তারা। ফলত রবিবার থেকে মহারাষ্ট্রের চাষিরা পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখন উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, পাঞ্জাবের পেঁয়াজ চাষি এবং ব্যবসায়ীরাও একই রাস্তায় হাঁটতে শুরু করেছেন। ফলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমতে শুরু করেছে।

সমানতালে বাড়ছে দাম। দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজ সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়। তবে পেঁয়াজের চাহিদা দেশের সর্বত্র। এই সবজিটি ছাড়া একটা দিনও চলে না আম-আদমির। সেই সবজির দাম দিন দিন চড়তে শুরু করেছে।
  গত শনিবার ভারত সরকার খাতায় কলমে না হলেও বাস্তবে পেঁয়াজ রফতানি একপ্রকার বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারের তরফে বলা হয় পরবর্তী নির্দেশ জারি না করা পর্যন্ত বিদেশে পেঁয়াজ পাঠাতে হলে ৪০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক দিতে হবে। চাষিদের বক্তব্য, এত চড়া হারে রফতানি শুল্ক মিটিয়ে পেঁয়াজ পাঠিয়ে লাভের মুখ দেখা কঠিন। আবার দেশীয় বাজারে বিক্রি করে উপযুক্ত দাম পাওয়া কঠিন। প্রতিবাদে মহারাষ্ট্রের কৃষকেরা স্টোর থেকে পেঁয়াজ বের করা বন্ধ করে দিয়েছেন।
একই পথে হাঁটছেন অন্য রাজ্যের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও উৎপাদকেরাও।

উল্লেখ্য , ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ রফতানি করে অনেক দেশে পাঠানো হয়। সরকারী তথ্য অনুসারে, ২০২২-২৩ সালে ২৫,২৫,২৫৮.৩৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ রফতানি হয়েছিল, যার আয় ৪,৫২২.৭৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ ভারতীয় পেঁয়াজ কেনে। সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ কেনে বাংলাদেশ। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা বাড়লেও ৪০ শতাংশ রফতানি শুল্ক আরোপের ফলে রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। খবরে বলা হয়েছে, অনেক রফতানিনিকারক আগের দামের ভিত্তিতে চুক্তি নিয়েছেন, যার কারণে তাদের নতুন শুল্কের বোঝা বহন করতে হবে।